1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| সকাল ৯:০৫|

নগরীতে মরিচ ছাড়াই তৈরি হয় মরিচের গুড়া

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

রমজান মাসকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীতে ভয়াবহ খাদ্য ভেজালের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাটখোলা মরিচ পট্টিতে ‘বাবা লেচুশাহ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মরিচের গুড়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ংকর ভেজাল পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাহারায় এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের সামনের অংশ তালাবদ্ধ রেখে পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শ্রমিকরা ভেজাল মরিচের গুড়া তৈরি করছেন।

সেখানে পচা ও পোকাধরা চাল, কৃত্রিম রং, ধানের তুষ, নারিকেলের শুকনো ছোবা ও ক্যামিকেল মিশিয়ে শুকনা মরিচ ছাড়াই মরিচের গুড়া তৈরি করা হচ্ছিল।

গুদামে প্রস্তুত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভেজাল মরিচের গুড়া মজুদ থাকতে দেখা যায়। অনুসন্ধানী টিম ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাধা দেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব এফ এম আলামিন ও তার সহযোগীরা।

তখন তিনি প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন যে অবৈধ ব্যবসার সময় তারা পাহারা দেন এবং প্রতিদিন মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পান। সারাদিনে প্রয় ২১৫ বস্তা মরিচের গুড়া তৈরি হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত অপর একজন হুমকি দিয়ে বলেন, বিএনপি না পারলে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ দিয়ে সংবাদকর্মীদের থামানো হবে। ঘটনার একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন ৬ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি জসিম।

তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ১৭ বছর আমি না খাওয়া। এই ব্যবসা এখন আমি করি, আপনারা সন্ধ্যার পরে আসেন, আমি খুশি করবো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. শামিম প্রায় পাঁচ বছর আগেও ফেরি করে চটপটি বিক্রি করতেন। তার আগে বাদাম বিক্রি করতেন। ভেজাল হলুদ ও মরিচের ব্যবসার মাধ্যমে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪২ লাখ টাকা দিয়ে হাটখোলা এলাকায় দুটি দোকান কিনেছেন তিনি। এছাড়া পলাশপুরের নুর নগর ও পিডিবি এলাকায় দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি কিনেছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পচা ও পোকাধরা চাল, কৃত্রিম রং, ধানের তুষ, নারিকেলের শুকনো ছোবা ও ক্যামিকেল মিশ্রিত ভেজাল মরিচের গুড়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এসব উপাদান দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কেমিক্যাল রং ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি করে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা গুরুতর অপরাধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ভেজাল খাদ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক সুমি রাণী মিত্র বলেন- আমরা অভিযান করবো। প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রমজানকে সামনে রেখে এ ধরনের খাদ্য প্রতারণা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com