
বিনোদন ডেস্ক//
বিদেশ যাওয়ার সময় ২০২৫ সালের মে মাসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। ভাটারা থানার জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এই অভিনেত্রীকে।
কয়েকদিনের কারাভোগ করতে গিয়ে জীবনের বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অচেনা মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতা তাকে অবাক করেছিল। সেইসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার প্রেমও ভেঙে গেছে। ভয়ে তার সঙ্গে আর যোগাযোগই করেনি তার প্রেমিক।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশনের এক পডকাস্টে তিনি সেসব অভিজ্ঞতার জানান। ফারিয়া বলেন, ‘জেলার থেকে শুরু করে সেখানকার সবাই এত সহানুভূতি ও ভালোবাসার সঙ্গে ব্যবহার করেছে, যেটা ভাবতে পারিনি।
সবাই আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা না খেয়েই ছিলাম। আমি দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে, সকালে দেখেছি রুটি ছিঁড়ে মিষ্টিকুমড়া দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে।
আমার যতটুকু মনে আছে, আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। তাদের আমি চিনিও না। জীবনে আর কখনো তাদের সঙ্গে দেখা হবে কি না, তাও জানি না।’ ফারিয়ার কথায়, কারাগারে কাটানো ৪৮ ঘণ্টা তাকে নতুনভাবে মানুষ চিনতে শিখিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সবাইকে বদলে যেতে দেখেছি। ওই সময়ে একজনের সঙ্গে আমি সম্পর্কে ছিলাম। জেল থেকে বের হওয়ার পর সে আমার সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগ করেনি।
মানুষের ওপর থেকে আস্থা-ভালোবাসা উঠে গেছে এরপর থেকে। কাছের বন্ধুরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমার সঙ্গে তোলা ছবি মুছে দিয়েছে। আমি বিপদে পড়েছি বুঝতে পেরে অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ওই ৪৮ ঘণ্টায় আমি বুঝে গেছি, কে আমার আপন, আর কে নয়।’
বলা দরকার, ২০২৫ সালের ১৮ মে গানের ভিডিওর শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। সময়মতো পৌঁছান বিমানবন্দরেও। কিন্তু ফারিয়া জানতেন না, তার জন্য অপেক্ষা করছিল অন্য কিছু।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর ১৯ মে ফারিয়ার জামিন নামঞ্জুর হলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। পরদিন ২০ মে জামিন হয় নুসরাত ফারিয়ার।
ফারিয়া জানান, মামলার বিষয়টি অত গুরুত্ব দেননি সেসময়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন কানাডায়।
ফারিয়ার কথায়, ‘আমি শুনেছিলাম আমার নামে একটা মামলা হয়েছে। কিন্তু আমি যেহেতু সে সময় দেশে ছিলাম না, তাই এটা নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম না। সেদিন থাইল্যান্ডে যাচ্ছিলাম আমার গানের শুটিংয়ে।
এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগেও ভাবিনি, এ রকম কিছু হতে পারে। ইমিগ্রেশন শেষ করে লাউঞ্জে বসে আলু ভাজি আর রুটি খাচ্ছিলাম। এরপর কী হয়ে গেল বুঝতে পারছিলাম না। তাৎক্ষণিক আমার মা ও শিক্ষককে ফোন করি।
আটকের পর আমাকে অনেক প্রশ্ন করা হয়। একসময় তারা বুঝতে পারেন, আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে প্রথমবারের মতো আমি এজলাসে দাঁড়াই; যেটা এত দিন শুধু সিনেমায় দেখে এসেছি।’
ফারিয়াকে গ্রেপ্তারের পর শোবিজের সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অনেক মানুষ, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন- তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন ফারিয়া।
এখনো সেই মামলা শেষ হয়নি। প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হয় তাকে। এ ঘটনার পর অনেকে তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান বলেও জানান ফারিয়া।