1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ| ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| রবিবার| দুপুর ১:৩৬|

শীতের আগমনে লেপ-তোষক কারিগরদের বেড়েছে ব্যস্ততা

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ ডেস্ক//

উত্তরের জেলাগুলোর খুব কাছেই হিমালয়। ফলে এ জেলাগুলোয় শীত অনুভূত হয় একটু আগেভাগেই। দিনে গরম, রাতে ঠাণ্ডা, ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস আর হালকা কুয়াশায় ঘাস-পাতার ওপর জমে থাকা শিশির বিন্দু এখানে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। তাই শুরু হয়েছে শীত নিবারণের প্রস্তুতিও।

এরসঙ্গে ব্যাস্ততা বেড়েছে লেপ-তোষক কারিগর ও বিক্রেতাদের।

অন্যান্যবারের তুলনায় এবার শীত নেমেছে একটু আগে থেকেই। তাই শীত নিবারণে জমে উঠছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা। শীত মোকাবেলায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ছুটছে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে।

তাই লেপ-তোষকের কারিগর ও বিক্রেতারা এখন ভীষণ ব্যস্ত। শীতের সময়টুকু কাজে লাগিয়ে পুরো বছরের খোড়াক যোগনোর চেষ্টা কারিগরদের। কিন্তু বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে সস্তুষ্ট নন তারা।

লেপ কারিগর আব্দুল মোতাল্লেব বলেন, শীতের সময় নভেম্বর থেকে জানুয়ারি- এই তিন মাস ছাড়া বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। সারা বছর বসেই থাকতে হয়।

তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে একটি লেপ তৈরির পারিশ্রমিক ছিল ২০০ টাকা। আর বর্তমানেও একটি লেপ তৈরি করে ২০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়।

আরেক কারিগর প্রণয় বর্মণ বলেন, ‘বাজারে সব জিনিস-পত্রের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু আমাদের পারিশ্রমিক তেমন বাড়েনি। বর্তমানে যে মজুরি পাই তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারের সারা মাসের খরচ কুলানো যায় না।’

নাজমুল ইসলাম নামের এক কারিগর আক্ষেপ করে বলেন, দেশে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় নাই। এখনও আগের মজুরিতে কাজ করতে হচ্ছে।

এই মৌসুমে বাজার ভালো থাকলে সারা দিনে পাঁচ থেকে ছয়টি লেপ তৈরি করতে পারি। তিন মাস কাজ করে কিছু টাকা সঞ্চয় করি, তা দিয়ে বছরের অন্য সময় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করি। মালিকরা যদি মজুরি একটু বাড়াতো, তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।

এদিকে, শীত মোকাবেলায় পছন্দের লেপ-তোষক কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন দোকানে। তবে অভিযোগ, দাম বেশি নিচ্ছেন ব্যাবসায়ীরা। আর ব্যাবসায়ীরা জানাচ্ছেন তাঁদের সীমাবদ্ধতার কথা।

সদর উপজেলা নিশ্চিন্তপুরের বাসিন্দা নূরে আলম বলেন, উত্তরের সীমান্তবর্তী এ জেলায় শীত একটু অগ্রিম শুরু হয়। তাই তিনি শীতের ঠাণ্ডা মোকাবেলায় লেপ তৈরি করতে এসেছেন। তবে এবছর লেপের দাম অনেক বেশি নিচ্ছেন দোকানিরা।

পৌর শহরের বাজার পাড়ার ইসরাফিল জানান, গত বছর পুরনো লেপ নতুন করে ধোলাই ও নতুন কাপড় দিয়ে শেলাই করতে খরচ পড়েছে এক হাজার টাকা।

কিন্তু এবছর সেই একই লেপে খরচ পড়েছে সাড়ে ১২০০ টাকা। হাজিপাড়ার বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, সাত-পাঁচ হাতের একটি নতুন লেপ তৈরি করাতে গত বছর খরচ হয়েছে ১৪০০ টাকা। এবছর একই মাপের লেপ তৈরি করতে লাগছে ২২০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লেপে ৮০০ টাকা বাড়তি গুণতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের এসব অভিযোগ স্বীকার করে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজালাল ক্লথস্টোরের স্বত্বাধিকারী বজলুর রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর সব ধরনের তুলা ও কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় লেপের দামও কিছুটা বেড়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়েই একটু দাম বাড়িয়েছেন তারা।

তাছাড়া লেপ তৈরির কাঁচামাল ঢাকা থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় লেপের দামও কিছুটা বেড়েছে। তার পরও একটি লেপ বিক্রি করে মাত্র লাভ থাকে দেড় শ থেকে ২০০ টাকা।

একই কথা বলেন পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার লেপ ব্যবসায়ী নবী ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছর এই মৌসুমে বেচাকেনা তেমন হয়নি। এ বছর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে শীত কতদিন স্থায়ী হবে। এখন পর্যন্ত আশা করা যাচ্ছে ব্যবসা ভালোই হবে।

আরেক ব্যবসায়ী মনসুর আলী বলেন, জিনিসপত্রের দাম ও কারিগরদের মজুরি দিয়ে লেপ বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হয় না। ক্রেতারা যেন সাধ্যের মধ্যে লেপ কিনতে পারেন, সেজন্য লেপ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সীমিত লাভেই লেপ বিক্রি করার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, শীত মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির কথা জানালেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া বেসরকারিভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে কম্বল পাওয়া গেছে।

ছিন্নমূল মানুষদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে ইউনিয়নপর্যায়ে তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com