ছগির হোসেন, কলাপাড়া//
পটুয়াখালীর কলাপাড়া শের-ই- বাংলা নৌ ঘাঁটিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন নাবিক ব্যাচ-২০২৬ এর শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২১ মে সকাল আটটায় বানৌজা শের-ই-বাংলা ঘাটি প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনি এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজৃুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে নবীন নাবিকরা সুসজ্জিত মার্চপাস্টে অংশ নেন।
এসময় তাদের শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন দিক প্রদর্শন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার ভাষণে, স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহিদ লে. কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনসহ সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি নৌবহরে দুটি হেলিকপ্টার, দুটি আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকল, ৪ টি মাল্টি মিশন ইন্টারসেপ্টর বোট, পাঁচটি পেট্রোল বোট অন্তর্ভুক্তকরণের পাশাপাশি নিজস্ব ডাটা সেন্টার ও BNNET স্থাপন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ ও এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেমসহ আধুনিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়াও, নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ নিজস্ব সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ, এলসিটি ও অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নৌ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
নৌবাহিনী প্রধান দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যে-কোন প্রকার ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সকল সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ও পবিত্র দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে পেশাগত জীবন প্রবেশ করায় নৌবাহিনী প্রধান নবীন নাবিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় হতে অর্জিত সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে যোগ্য ও গর্বিত নাবিক হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান।
বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলতে এসকল নবীন নাবিক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করে নবীন নাবিকদের দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান।
তিনি নবীন নাবিকদের সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন।
মনোজ্ঞ এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীর এ–২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. শাহরিয়ার টুটুল পেশাগত ও অন্যান্য বিষয়ে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন।
এছাড়া মো. সামিউল ইসলাম শাকিল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে 'কমখুল পদক' এবং মো. কাদের মিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে 'শের-ই-বাংলা পদক’ অর্জন করেন। নারী নাবিকদের মধ্যে মোছা. মারিয়া আক্তার শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি 'প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক' লাভ করেন।