নিজস্ব প্রতিবেদক//
বরগুনার পাথরঘাটায় বাবার জমিতে ঘর তুলতে গেলে এতিম মেয়ের কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব বাদশা আকনের বিরুদ্ধে।
চাঁদার টাকা না পেয়ে চিপ হুইপের নাম ভাঙ্গিয়ে ঘর নির্মাণকারী কাঠমিস্ত্রি মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এসিড নিক্ষেপ করে শিশুর শরীর ঝলসে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে- ওই ইউনিয়নের ফাতিমা জমাদ্দার অর্পা পৈত্রিক জমিতে ঘর তুলতে গেলে বিএনপি নেতা বাদশা আকন ও হারুন জমাদ্দার ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদার টাকা না পেয়ে অর্পা ও তার দুই শিশুর উপর হামলা ও ভাংচুর চালায়। এ সময় অর্পার কন্যা সন্তান জাইমা জাহান সিহাহ্’র উপর এসিড নিক্ষেপ করে শিশুর শরীর ঝলসে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অসহায় নারীর আত্মচিৎকারে পাষাণ হৃদয় গলেনি তাদের।
অর্পা জমাদ্দার আরো বলেন- আমার স্বামী প্রবাসী আছে। তাই তাদের ভাষ্যমতে আমার কাছে লাখ লাখ টাকা রয়েছে, সেখান থেকে আমার পৈত্রিক জমিতে ঘর তুলতে হলে তাদেরকে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে।
জানা গেছে- কিছুদিন আগে এই বাদশা আকোন তার সাঙ্গপাঙ্গ চরদুয়ানী বাজারের সরকারি খাদ্য গুদামের জেটি দখল করে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করে বিক্রি করেছে।
এছাড়াও কারো কাছে চাঁদা চেয়ে না পেলে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও এই বাদশা-হারুন গং সিন্ডিকেট বিভিন্ন সময় সরকারি ও মালিকানা জমি দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ফাতিমা জমাদ্দার অর্পা সংবাদকর্মীদের বলেন- আমার দাদার রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তি আমার চাচা ও আমার ভাই ভোগ দখল করে আসছে।
আমার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ২০১৯ সালে আমাকে হত্যার পরিকল্পনাও করেছে। হত্যার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়ে আমাকে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে সাতটি ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই ও টিপসাপ রেখে আমার ভাগের সকল সম্পত্তি তারা লিখিয়ে নেয় তারা। এরপর আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনা আমি এডিএম কোর্ট একটি মামলা দায়ের করি। বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য দিলে ঘটনা সত্যতা পায় পুলিশ। এরপর তারা উপায়ান্ত না পেয়ে আদালতে হাজির হয়ে মুসলেকা দিয়ে আসা যে, ভবিষ্যতে আমার সম্পত্তি পেতে যাতে কোন রকম সমস্যা না হয়।
কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরই শুরু হয় তাদের তালবাহানা সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আমি আমার বাবার সম্পত্তি বুঝে পাইনি। পরবর্তীতে আমার বড় চাচার সাথে আমি একটি বসতঘর তোলার জন্য অনুরোধ জানাই। আমার চাচা বলেন- যেখানে তোমার বাবা ছিলেন তুমি যেখানে জন্ম হয়েছে সেখানে তুমি ঘর উঠাও সমস্যা নাই।
কিন্তু যখনই আমি কাঠ কাটিয়ে ঘরের কাজ শুরু করবো তখন আমার কাছে আমার চাচা হারুন অর রশিদ জমাদ্দার ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। সে বলে আমাকে ২ লক্ষ টাকা দাও তোমাকে সসম্মানে এখানে উঠিয়ে দেবো না হলে তুমি এখানে ঘর উঠাতে পারবে না।
আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চিপ হুইপের নাম ভাঙ্গিয়ে তার সহযোগী বাদশা আকন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হক পিয়াসসহ বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মারধর করে এবং আমার মিস্ত্রিদেরকেও মারধর করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ সময় তারা এসিড নিক্ষেপ করে আমার কন্যা সন্তান জাইমা জাহান সিহাহ্’র শরীর ঝলসে দিয়েছে। আমি ও আমার সন্তানরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
এরপর আমাদেরকে সেখানে ২৪ ঘন্টা আহার বিহীন অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। আমার সন্তানকে বর্তমানে শের-ই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে ঘর নির্মাণকারী কাঠমিস্ত্রি জানান- আমরা কাজ করছিলাম হঠাৎ করে বাদশা আকন ও হারুন জোয়ারদার ও পিয়াস এসে আমাদের কাজে বাধা দেয় এবং বাদশা আকনকে বলতে শুনি তাদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
জমির মালিক অর্পা জমাদ্দার কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বললে তার উপরে হামলে পরে বাদশা আকন ও হারুন জমাদ্দার এবং পিয়াস। এ সময় আমাদের কেউ মারধর করে ও আমাদের যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং পুনরায় সেখানে কাজ করতে আসলে আমাদের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে জানতে বাদশা আকনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন- আমাকে চেনেন, আগে আমার বিষয়ে জানবেন তারপর কথা বলবেন। অর্পা ওখানে জমি পাবে না, জমি হারুন জোয়ারদারের। আমার বিরুদ্ধে অবিযোগ থাকলে সেটা আইন- আদালত দেখবে।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হক পিয়াস বলেন- আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি, তবে আপনাকে বলা যাবেনা। অর্পা আমার আত্মীয়, তাকে কেউ মারধর করেনি। সে জমি পেলে সেটা বুঝে নিয়ে ঘর তুলবে।
কিন্তু সে জমি বুঝে না পেয়েই ঘর তুলছে। তাই পুলিশ এসে কাজ ব্নধ করে দিয়েছে। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হকের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।