নিজস্ব প্রতিবেদক//
বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী ট্রান্সমিটার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ইয়াবা সেবন, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইমরান সরদার নামে এক ভুক্তভোগী বরিশাল মেট্রোপলিন কাউনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ইমরান সরদার জানান, গত ১ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তালতলী ট্রান্সমিটার এলাকায় ইমরানের ভাড়া বাসার পাশের কক্ষে বসে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন ও মাদক কারবার চালিয়ে আসছেন স্বপন ফরাজী (৪৪), সোহান (৩০), বাবু (৩০) ও আরও চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
প্রতিবেশী হওয়ায় প্রতিদিন তাদের মাদকের গন্ধে তার তিন বছর বয়সী ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বাইরে গিয়ে করতে অনুরোধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
ইমরান আরও জানান, প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরাসহ বাড়ির মালিক আলম ও তাঁর ছেলে রাতুলসহ কয়েকজন ইমরানের ভাড়া বাসায় এসে হামলা চালায়। এ সময় তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানকেও মারধর করা হয় এবং বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
হামলার এক পর্যায়ে বিবাদীদের হাতে থাকা হকিস্টিকের আঘাতে ইমরানের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে স্থানীয় সুমন খানও হামলাকারীদের আঘাতে রক্তাক্ত হন।
ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন করলে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবারকে উদ্ধার করে এবং স্থান পরিদর্শন করে। পুলিশ আসার খবর পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান।
এ সময় ইমরান আক্ষেপ করে বলেন, স্বপন ফরাজী এক সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহতাব হোসেন সুরুজের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। এখনো কিভাবে দাপিয়ে বেড়ান বুঝতে পারছি না। আরেক অভিযুক্ত বাবু সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন।
অভিযুক্ত স্বপন ফরাজী বলেন- আমরা কোনোভাবেই মাদক সেবন কিংবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। তবে সেদিন আমার আত্মীয়ের বাসায় বসে ভুল বোঝাবুঝির কারনে হাতাহাতি হয়। তখন একজনের মাথার চামড়া উঠে যায়। সোহান ও বাবুসহ কয়েকজনের উপস্থিতির কথা স্বীকার করেন তিনি।
তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আমি শ্রমিকদল করি। এলাকায় আমি জমির ব্রোকার। তাই আমি পেটের দায়ে ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে সুরুজ ভাইয়ের সাথে ছিলাম। তবে যে ছবির কথা বলছেন তা এডিট করা।
অপর অভিযুক্ত সোহান ও বাবুকে মুঠোফােনে পাওয়া যায়নি।
কাউনিয়া থানার ওসি ইসমাঈল হোসেন বলেন- অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা দেখা হচ্ছে।