ছবুর হোসেন, বরিশাল//
ডিজিটাল হচ্ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সেবা কার্যক্রম। এরই মধ্যে চালু হয়েছে অনলাইন পানি সেবা। আর নতুন রাজনৈতিক প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দায়িত্ব নিয়েই চালু করেছেন অনলাইন অভিযোগ কেন্দ্র। মাত্র দুই মাসে এসব সেবা কেন্দ্রে অভিযোগের ভিত্তিতে নগরবাসীর শতাধীক সমস্যার সমাধান করেছে কর্পোরেশন।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসের পর থেকে সিটি কর্পোরেশনে কোন মেয়র না থাকায় সকল কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরী হয়। ভেংগে যায় সিটি কর্পোরেশনের শৃংখলা।
হু হু করে বাড়তে থাকে দূর্ণীতি, অনিয়ম সেচ্ছাচারিতা। নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। সেই জায়গা থেকে দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক দল থেকে প্রশাসক নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব দেয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনকে। তিনি প্রশাসক হিসেবে গত মার্চ মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর বদলাতে শুরু করেছে কর্পোরেশনের ভিতর ও বাহিরের চিত্র।
চেয়ারে বসেই দ্রুত নাগরিক সেবা পৌছে দিতে অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। কর্পোরেশনে এসে যাতে অভিযোগ দিতে না হয় সেজন্য চালু করেন অয়াটসআপ নম্বর।
সেখানে নাগরিকরা তাদের নিত্যদিনের নানা সমস্যার সচিত্র অভিযোগ দেয়া শুরু করেন। গত দুই মাসে ওই নম্বরে আসা নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ডের শতাধীক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করেছে সিটি কর্পোরেশন।
শুধু এখানেই শেষ নয় কর্পোরেশনের সকল দপ্তরের সেবা কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক শিরীন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমেই হাত দিয়েছেন পানি বিভাগে। চালু হয়েছে অনলাইন পানি সেবা।
কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এবং সেবা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে এবার ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় এলো বিসিসির পানি সরবরাহ বিভাগ।
এই ডিজিটাল সেবার আওতায় এখন থেকে নগরবাসী ঘরে বসেই নতুন পানি সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন, পানি সংক্রান্ত বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ অনলাইনেই সম্পন্ন হবে, দাপ্তরিক কাজের জন্য বারবার সিটি কর্পোরেশনে আসার ভোগান্তি এবং মূল্যবান সময় দুই-ই অনেকাংশে কমে আসবে।
বুধবার নগর ভবনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই আধুনিক অনলাইন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক নিজে একজন গ্রাহকের আবেদনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে বিসিসি’র এই নতুন ডিজিটাল যাত্রার সূচনা করেন।
বিসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের দাপ্তরিক কাজে সিটি কর্পোরেশনে আসার ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
নগরবাসী মনে করেন. স্মার্ট ও জনবান্ধব বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের এই আধুনিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আশা করা যায়, এই অনলাইন সিস্টেম চালুর ফলে নাগরিক সেবার মান আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং “স্মার্ট বরিশাল” বিনির্মাণে এটি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।