আন্তর্জাতিক ডেস্ক//
ভারতের মণিপুরে এক অতর্কিত সশস্ত্রহামলায় কুকি চার্চের তিনজন যাজকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকালে ইম্ফল-তামেংলং মহাসড়কের কোটলেন ও কোটজিম গ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মণিপুর ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড ডক্টর ভি. সিতলাহু, রেভারেন্ড কাইগোলুন এবং পাস্টর পাওগোলেন।
জানা গেছে, হতাহতরা চুরাচাঁদপুর জেলার লামকা এলাকায় টিবিএ সম্মেলনে যোগদান শেষে দুটি গাড়িতে করে কাংপোকপিতে ফিরছিলেন। ফেরার পথেই মাঝরাস্তায় ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। ঘটনার তীব্রতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ‘কুকি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস।’ সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘কুকি চার্চের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের ওপর চালানো এই হামলা এনএসসিএন-আইএম এবং জেডইউএফ-এর ষড়যন্ত্র।
প্রতিনিধিদলটি একটি ধর্মীয় সভায় যোগ দিতে চুড়াচাঁদপুর থেকে কাংপোকপি যাচ্ছিল। কিন্তু তাদের হত্যা করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলে থাদু ব্যাপটিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউনাইটেড ব্যাপটিস্ট কাউন্সিলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পাদ্রিরা ছিলেন।’
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে থেকে মণিপুরের কুকি ও টাংখুল নাগাদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। দুই পক্ষের যুবকদের মধ্যে কথিত মারধরের ঘটনার সূত্র ধরে এই সংঘাত শুরু হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু সহিংসতা দ্রুত বেশ কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং তখন থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার এই হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে কুকি ছাত্র সংগঠন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে চুড়াচাঁদপুরে একটানা বন্ধের ডাক দিয়েছে। এদিকে, গির্জার নেতাদের হত্যার প্রতিবাদে থাডো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলি কাংপোকপি জেলার সদর হিলে অবিলম্বে বন্ধের ডাক দিয়েছে।