সংবাদ ডেস্ক//
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরলে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে, এবারের বাজেটে সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সহায়তার অর্থ পাওয়ার পর উপকারভোগীদের জীবনে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো। সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা জানা জরুরি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কেউ যদি আগের অবস্থার চেয়ে পিছিয়ে যায়, তাহলে তার কারণও বিশ্লেষণ করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে কোনো বাজেটে এত স্পষ্টভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বরাদ্দ ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে তার জানা নেই। এবারের বাজেটে কার জন্য কী বরাদ্দ এবং কার জীবনমান উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজ বা দেশের কোনো নাগরিককে বাদ দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি। প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ কারণেই সরকার পুরো বিষয়টিকে ‘ডেমোক্রাটাইজেশন অব দ্য ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ হিসেবে দেখছে।
অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি চলবে আর দেশের অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকবে-এ ধরনের পরিস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য কাম্য নয়।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হবে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।