মিঠু আহম্মেদ, বরিশাল//
প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত সাত মাসে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার শিশু হারিয়ে গেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাঠপর্যায়ের এই বাস্তব চিত্রের সঙ্গে পুলিশের কাছে থাকা নিখোঁজের সঠিক হিসাবের বড় ধরনের অমিল রয়েছে।
পুলিশি রেকর্ডে প্রকৃত সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ না থাকায় নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আমাদের সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে এবং একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে এখনই সম্মিলিত সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
শিশু নিখোঁজ হওয়ার প্রধান কারণসমূহ চাইল্ড ট্রাফিকিং বা পাচার: সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে বা ভেতরে শিশুদের পাচার ও অনৈতিক কাজে ব্যবহার।
পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপ পরিবারের অশান্তি বা পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক শিশু স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ে। প্রযুক্তির অপব্যবহার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত মানুষের ফাঁদে পড়ে অনেক কিশোর-কিশোরী নিখোঁজ হচ্ছে।
তদারকির অভাব কর্মব্যস্ততা বা অসচেতনতার কারণে জনাকীর্ণ স্থানে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নজর শিথিল হওয়া। অভিভাবক ও সমাজের করণীয় (সচেতনা মূলক পদক্ষেপ)জরুরি, সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, মোবাইল নম্বর এবং বাসার ঠিকানা মুখস্থ করান।
কড়া নজরদারি মেলা, বাজার, রেলস্টেশন বা যেকোনো জনাকীর্ণ স্থানে শিশুর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। ডিজিটাল নিরাপত্তা সন্তান ইন্টারনেটে কার সাথে যোগাযোগ করছে, কোনো সন্দেহজনক ফাঁদে পা দিচ্ছে কি না, তা বন্ধুসুলভ আচরণ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করুন।
অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা উপহার গ্রহণ না করতে এবং তাদের সাথে কোথাও না যেতে শিশুকে সচেতন করুন। (প্রতিবেশীদের ভূমিকা:) এলাকায় কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহভাজন কাউকে শিশুদের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে সাথে সাথে খোঁজ নিন।
শিশু হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয় দ্রুত জিডি (GD) করা শিশু নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় ছবি ও বিবরণসহ সাধারণ ডায়েরি করুন।
সরকারি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ কল করে দ্রুত তথ্য জানান। প্রচার মাধ্যম ব্যবহার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্থানীয় মাইকিং এবং গণমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে শিশুর ছবিসহ সন্ধান দিন।
শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের নিজেদের সচেতনতাই পারে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে। আজই আপনার সন্তানকে সচেতন করুন।