
স্পোর্টস ডেস্ক//
শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। নুরুল হাসান ক্যাচ তুলে দিলেন ইয়াসির আলীর হাতে, আর তাতেই ম্যাচে ফিরল নাটক। উইকেটে এলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলে এক রান নিলেই নিশ্চিত হতো রংপুর রাইডার্সের জয়। বল ব্যাটে লাগালেও নন-স্ট্রাইক প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই স্টাম্প ভেঙে দেন ফিল্ডার মেহরব হোসেন। ম্যাচ গড়ায় টাইয়ে।
চলমান বিপিএলের প্রথম সুপার ওভারের রোমাঞ্চের পর শেষ হাসি হাসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মূল ম্যাচে শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ম্যাচ টাই করানো রিপন মণ্ডলই সুপার ওভারে হয়ে ওঠেন রাজশাহীর নায়ক।
রিপন সুপার ওভারে দেন মাত্র ৬ রান। কাইল মেয়ার্সকে বোল্ড করেন তিনি, আর পুরো ওভারে কোনো বাউন্ডারিই মারতে পারেননি রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। ৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই চার মারেন তানজিদ হাসান। পরের দুই বলেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে রাজশাহী নিশ্চিত করে জয়।
টসে হেরে এর আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার তানজিদ হাসান ৬ বলে ২ রান করে ফিরে যান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন ও সাহিবজাদা ফারহান গড়েন ৯৩ রানের জুটি, যা রাজশাহীর ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়।
হঠাৎই সেই জুটির পতন ঘটে নাজমুলের রানআউটে। এক রান নেওয়ার পর ভুল বোঝাবুঝিতে দ্বিতীয় রানের চেষ্টা করলে বোলার নাহিদ স্টাম্প ভেঙে দেন। ৩০ বলে ৪১ রান করে ফিরতে হয় নাজমুলকে।
কিছুক্ষণ পর ৪৬ বলে ৬৫ রান করে আউট হন সাহিবজাদা ফারহানও। এরপর রাজশাহীর ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। নাজমুল ও সাহিবজাদা ছাড়া কেবল ওপেনার মোহাম্মদ নেওয়াজই দুই অঙ্কে পৌঁছান—১১ বলে করেন ১০ রান। পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে রাজশাহী তোলে ১৫৯ রান।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ২২ রানে লিটন দাসের উইকেট হারায় রংপুর। তবে ডেভিড ম্যালান ও তাওহিদ হৃদয়ের ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি দলকে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। হৃদয় ৩৯ বলে ৫৩ রান করে আউট হলে ভাঙে সেই জুটি।
শেষ পর্যন্ত ম্যালান ৫০ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকলেও শেষ ওভারের পুরোটা সময় তিনি ছিলেন নন-স্ট্রাইকে। শেষ বলের নাটকীয় রানআউট ও সুপার ওভারের ব্যর্থতায় জয় হাতছাড়া হয় রংপুর রাইডার্সের।