আন্তর্জাতিক ডেস্ক//
হঠাৎ করেই কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন সদ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানো তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ বৃহস্পতিবার আইনজীবীর কালো পোশাক পরে হাইকোর্টে উপস্থিত হন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আদালতে হাজির হন সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী।
আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বহু দলীয় নেতা-কর্মীকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এসসি, এসটি ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। তারা আতঙ্কের মধ্যে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের সামনেই মানুষ হত্যা ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আদালত যেন অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়ে পুলিশকে সব সহিংসতার ঘটনায় এফআইআর নিতে নির্দেশ দেয়।’
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
তবে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে `চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার দিকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘ওরা আমাকে আক্রমণ করেছে’। পরে তিনি দ্রুত আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।
তৃণমূল কংগ্রেস এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। মমতার সঙ্গে আদালতে উপস্থিত থাকা তৃণমূল নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপির সমর্থক কিছু আইনজীবী ইচ্ছাকৃতভাবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন।
তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী যদি আদালত প্রাঙ্গণে এভাবে হেনস্তার শিকার হন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়।’