1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| শীতকাল| মঙ্গলবার| সকাল ৮:০২|

ঋণ যাচ্ছে কম কৃষিতে

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

কৃষি ডেস্ক//

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বাড়তি চাপে দেশের কৃষি খাতে অর্থায়ন জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও ঋণ যাচ্ছে কম। অপর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। প্রতি অর্থবছর ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঋণ বিতরণের হার প্রায় ৫ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেলেও কৃষিতে বাড়ছে তুলনামূলক কম। চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা বা ২.৬৩ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ আলোচ্য অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো মাত্র ৩০ শতাংশের মতো কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কৃষিতে ঋণের অপর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং প্রত্যাশিত মাত্রায় ঋণ না বাড়ায় উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্রেক্ষিতে সম্প্রতি এক সভায় দেশের সব ব্যাংকে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কৌশল গ্রহণ করে ঋণ বিতরণ জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের এই অভিভাবক মনে করছে, কৃষিঋণ বিতরণে ধীরগতি অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষক নয়, পুরো খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতিই চাপের মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ জোরদারে বিকল্প ও উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং সম্প্রসারণ, সাব-ঋণ ব্যবস্থা, দলভিত্তিক ঋণ প্রদান, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এবং এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতির ব্যবহার। প্রয়োজনে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। সূত্রগুলো

বলছে, প্রতিবছর কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও ব্যাংকগুলোর ছলচাতুরির কারণে তার উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষকের কাছে পৌঁছায় না। ব্যাংকগুলো অন্য খাতে ঋণ দিয়ে তা কৃষিঋণ বলে চালিয়ে দেয়। আবার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া কৃষকের পক্ষে কঠিন। উপরন্তু নেটওয়ার্ক তৈরি করতে না পারায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের কৃষিঋণের অধিকাংশই এনজিওনির্ভরতায় বিতরণ করে। সরকারি ব্যাংকগুলো সরাসরি বিতরণ করলেও তাদের বিরুদ্ধে নানারকম হয়রানি, ভুয়া ঋণ সৃষ্টি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে এনজিও, মহাজন, জমির মালিক ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেই ঋণ নিতে বাধ্য হন গ্রামের প্রান্তিক কৃষকরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, বিভিন্ন কারণে ব্যাংকগুলো থেকে কৃষকের ঋণ পাওয়া অনেক কঠিন। অন্যদিকে এনজিও থেকে ঋণ পাওয়া যেমন সহজ, তেমনি ঋণ নিয়ে কৃষক যথাযথ কাজেই ব্যবহার করে। কারণ যখন যে ফসল সেই ফসলের জন্যই ঋণ দেয় এনজিওগুলো। এ জন্য কৃষকরা এনজিওদের থেকে ঋণ নিতেই বেশি আগ্রহী। কারণ এখানে ব্যাংকের মতো বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা থাকে না।

প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, আগের অর্থবছরগুলোতেও কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ আশানুরূপ ছিল না। গত অর্থবছরে বেশ কয়েকটি ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে কিছু বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০.৯৪ শতাংশ। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৬ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত, যেখানে গ্রামীণ কর্মজীবী নারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে এ কথা স্বীকার্য যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ ও অগ্রিমের মাত্র ২.৫ শতাংশ হারে কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ২.৫% সীমাবদ্ধ থাকায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যান্ত্রিকীকরণ, বীজ-সার-কীট ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সংবেদনশীল কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, কৃষি খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ সন্তোষজনক নয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ব্যাংকগুলোকে এজেন্ট ব্যাংকিংসহ বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ জোরদার করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতি অর্থবছর ব্যাংকগুলোর পোর্টফোলিও বা ঋণ বিতরণ হার প্রায় ৫ শতাংশ করে বৃদ্ধি পেলেও কৃষিঋণ বিতরণের হার তুলনামূলক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এটি গত অর্র্থবছরের তুলনায় মাত্র এক হাজার কোটি টাকা বা ২.৬৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঋণ বিতরণ প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় অনেক কম। সেক্ষেত্রে কৃষি খাতে জিডিপির অবদান, খাত সংশ্লিষ্ট শ্রমশক্তির সংখ্যা অনুপাতে এবং কোভিড ও জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলায় জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যৌক্তিক পর্যায়ে ঋণের বরাদ্দ ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত হবে। প্রতিবেদনে কৃষি খাতকে অধিকতর শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত এবং কৃষি ও পল্লীঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাংকের নিট ঋণ ও অগ্রিমের ন্যূনতম ২.৫০ শতাংশের পরিবর্তে পরবর্তী অর্থবছর থেকে ৮-১০ শতাংশে উন্নীত করারও সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৩০.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে কাক্সিক্ষত মাত্রার বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। অন্যদিকে গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.২৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়; যার মধ্যে সামগ্রিকভাবে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ৮৯.৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করে। এ ছাড়া গত অর্থবছরে অন্তত ১৭টি ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।

প্রতিবেদনে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়াতে নিজস্ব শাখা নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিকল্প মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আছে এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ঋণ, দলভিত্তিক ঋণ প্রদান, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এমএফআই-লিংকেজ ব্যবহার করে ঋণ বিতরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com