1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| শীতকাল| বৃহস্পতিবার| সকাল ৮:১৬|

আমার মূল কাজ হলো হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো: শেবাচিম পরিচালক

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে

মিঠু আহম্মেদ, বরিশাল//

আমার মূল কাজ হলো হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো, রোগীকে সন্তুষ্ট করা। হাসপাতালটি আমাদের সবার, এই হাসপাতাল চালাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর।

সংবাদ সন্মেলনে তিনি বলেন, ছাত্রদের চলমান আন্দোলন নিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য সহকারি উপদেষ্টা, সচিব ও ডিজি স্যারের সাথে কথা হয়েছে। তারা বরিশালের বিষয়ে অত্যন্ত পজেটিভ। বরিশালসহ সারাদেশে স্বাস্থ্য সংস্কার বিষয়ে কাজ করছেন তারা। তাদের সময় দিতে হবে। তবে অচিরেই সারা দেশে ৩ হাজার চিকিৎসক ও আগামী মাসে ৩২শত নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের হাসপাতালে তুলনামূলক বেশী চিকিৎসক ও নার্স পাবে বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। একই সাথে খুবই দ্রুততার সাথে আমাদের হাসপাতালের জন্য ১টি এমআরআই মেশিন, ক্যাথ ল্যাব ও সি-আম মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে।

হাসপাতালের ৩য় তলায় মেডিসিন কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সন্মেলনের শুরুতেই হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ১৯৬৮ মাত্র ৫০০ শয্যার অবকাঠামো নিয়ে নির্মিত হয়ে ছিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি। ৫৮ বছর পর হাসপাতালটির অবকাঠামোগত তেমন উন্নতি হয় নি। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন নতুন ভাবে ৭০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। গত অর্থ বছরে আমরা অন্তঃবিভাগে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯শত ৯৪ জন রোগীকে সেবা দিয়েছি। বহিঃ বিভাগে সেবা পেয়েছেন ৬ লাখ ১১ হাজার ৫শত ৮৪ জন। এখানে ২৪ ঘন্টাই মেজর ও মাইনর অপারেশন হচ্ছে। গত এক বছরে আমরা ৩১ হাজার ৩শত ৯৭ জন রোগীর অপারেশন করা হয়েছে। এই হাসপাতালে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এক বেডের বিরপরীতে ৩ জন রোগী সেবা নেন। বিপুল পরিমানের রোগী এখানে সেবা নিলেও অবকাঠামোগত কোনো উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালের টয়লেট ও পরিবেশ নোংড়া হওয়াসহ সর্বক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখানে পদায়নকৃত স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স এবং স্টাফদের। তাই হাসপাতালটি আমাদের সবার জন্য। এই হাসপাতাল চালাতে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আমার মূল কাজ হলো হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো, রোগীকে সন্তুষ্ট করা। সে ক্ষেত্রে আমি ডিসেম্বরে এখানে যোগদান করার পর থেকেই এখানে সেবার মান বাড়াতে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে সম্প্রতি সময়ে টাকা নেয়ার অভিযোগে সকল স্বেচ্ছাসেবী ট্রলি ম্যানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নতুন ৪৬ জন জনবল প্রাপ্তির পর বর্তমানে ট্রলি ম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সরকারি স্টাফদের। ৭টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই মনিটরিং টিম সকাল, বিকাল ও রাতে হাসপাতালের বহিঃ ও অন্তঃ বিভাগে মনিটরিং করেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ১০০টি সিলিং ফ্যান বসানো, হাসপাতাল সকল টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে অস্থায়ী ভাবে ৯০ জন হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ব্যবস্থা করা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ৮টি অটোমেটিক মেশিন চালু করা হয়েছে, জীবানুমুক্ত রাখার জন্য ২০টি স্প্রে মেশিন, টয়লেটের দরজা ও জানালা মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ চলছে, ১০০টি বেড ক্রয়াদেশ, হাসপাতালে রোগীর দালাল, বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি, হকার ছদ্মবেশে হাসপাতালে প্রবেশকারীদের দেখা মাত্রই ধরে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উপধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, হাসপাতালে সবচেয়ে বেশী রোগী সেবা নেন মেডিসিন বিভাগ থেকে। মেডিসিন বিভাগটি নতুন ভবনে হস্তান্তর করায় সেখানে রোগীদের নিদারুন কস্ট হচ্ছে। ফলে সেখান থেকে রোগীদের নানান অভিযোগ আসছে। তাই এই সমস্য সমাধানের জন্য আমরা চলতি সম্পাহের মধ্যেই মেডিসিন বিভাগটি পূর্বের স্থলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন ভবনে বহিঃ বিভাগ স্থানন্তরের কার্যক্রম চলছে।

সংবাদ সন্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com