
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মনজুরুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ফরিদপুর জেলার সভাপতি আরিফুর রহিম রনিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে মোটরসাইকেলে আসা তিনজন দুর্বৃত্ত অধ্যক্ষের উপর হামলা চালায়। তারা লোহার পাইপ দিয়ে অধ্যক্ষের মাথায় আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের স্ত্রী জাহিদা আক্তার কেয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে বিজেপি নেতা আরিফুর রহিম রনি, সাইমন ও জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত আরেকজন এখনও পলাতক রয়েছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে জানায় বিজেপি নেতা আরিফুর রহিম রনির নির্দেশেই তারা হামলা চালিয়েছিল। রনি তাদের ভাড়া করে অধ্যক্ষকে আক্রমণ করায়। তদন্তকারী কর্মকর্তা, কোতয়ালী থানার এসআই ফাহিম ফয়সাল জানান, প্রথমে হামলার তেমন কোনও সুস্পষ্ট ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের এক পর্যায়ে কলেজে ভর্তির একটি বিষয় সামনে আসে, যা আসামিদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। পুলিশ জানায়, বিজেপি নেতা রনি কলেজে এক ছাত্রীকে ভর্তি করানোর জন্য অধ্যক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। অধ্যক্ষ সেই ছাত্রীকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানালে রনি ক্ষুব্ধ হন এবং অধ্যক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। কয়েকদিন পরই তার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আলিপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত জুয়েল ও সাইমনের বাড়ি থেকে হামলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা জানান, সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের উপর হামলার মূল কারণ ছিল কলেজে ভর্তির একটি বিষয়। বিজেপি নেতা রনি অধ্যক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটান। পুলিশ পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।