
সংবাদ প্রতিদিন//
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে চীনের সংশ্লিষ্টতা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ বিষয়ে চুক্তিও করেছে দুই দেশ। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চীনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত একটি রোবোটিক পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি নির্ভর এই কেন্দ্রটি এখন জরুরি শারীরিক পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় রোগীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। রোবটিক পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনা চিকিৎসা খাতে বৃহৎ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির চিকিৎসকরা।
কেননা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এমন সংযোজন এটাই প্রথম।
প্রাথমিকভাবে এই ইউনিটটি গত বছরের জুলাই মাসের সহিংসতায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে শুরু করে।
জাতিসংঘ ও সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১৪০০ নিহত এবং ২২ হাজার মানুষ আহত হন। যাদের অনেকেরই মাথা, চোখ, পা ও মেরুদণ্ডে গুরুতর গুলির আঘাত লেগেছিল।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসিক্যাল মেডিসিন এবং রিহ্যাবিলিট্যাশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাদিম কামাল আনাদোলুকে বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ও আধুনিক রোবোটিক পুনর্বাসন কেন্দ্র।
এখানে ৫৭টি রোবট রয়েছে, যার অনেকগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি আরও জানান, একসঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এই কেন্দ্রে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা এখনও রোগীদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সরকারের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দেয়া হলেও প্রায় ৭০ শতাংশই ব্যক্তিগত অর্থায়নে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি এই সুবিধা পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কম মূল্যে পাওয়া যাবে। গত বছরের আগস্টে পতিত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া জটিল করেছে নয়াদিল্লি।
আগের তুলনায় বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। ফলে এখন অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য চীন, তুরস্ক, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান ডা. কামাল।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান ডা. আবদুস শাকুর বলেন, এটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন যুগের সূচনা। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আখতার হোসেন জানান, কেন্দ্রটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হবে।