
আন্তর্জাতিক ডেস্ক//
ভারতকে ‘নিরবচ্ছিন্ন’ জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ ছাড়া ভারতকে তাদের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়তে মস্কো দিল্লিকে সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লির রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এ ঘোষণা দেন। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে শেষে দুই নেতার সামনেই সংবাদ সম্মেলনে একাধিক সমঝোতাপত্র বিনিময় করেন ভারত ও রাশিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। সব সমঝোতাই বাণিজ্য বৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সমঝোতাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণ, মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে কাজ করার জন্য ভারতীয় নাবিকদের প্রশিক্ষণ, নতুন জাহাজ পথ গড়ে তুলতে বিনিয়োগ, বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত ইত্যাদি ক্ষেত্রের সমঝোতা।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়। রাশিয়া আর ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত। আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ক অর্থনৈতিক বিষয়সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আরও মজবুত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বাণিজ্য এখন রুবল আর ভারতীয় টাকায় চলছে। আমরা মেক ইন ইন্ডিয়া পরিকল্পনাকে সহযোগিতা করব। ‘লজিস্টিক রুট’ গড়ে তোলার জন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমরা ভারত মহাসাগরের রুট নিয়ে কথা চালাচ্ছি।’
বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ভারতকে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ করতে প্রস্তুত।’
এদিকে ভারত যাতে রাশিয়া থেকে তেল না কেনে তার জন্য দিল্লির ওপরে যুক্তরাষ্ট্র যখন চাপ দিচ্ছে, তার মধ্যেই ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘোষণা দিলেন।
তামিলনাডুর কুদানকুলামে ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়া হচ্ছে। সেখানেও রাশিয়া সহযোগিতা করছে বলে জানান পুতিন।
তিনি বলেন, ‘ছয়টির মধ্যে দুটি ইউনিট ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, বাকি চারটি নির্মীয়মান অবস্থায় আছে। পুরোপুরি কাজ শুরু করলে এটি ভারতের স্বচ্ছ ও সাধ্যের মধ্যে মূল্যে বিদ্যুতের যে চাহিদা আছে, তাতে একটা বড় অবদান রাখবে। আমরা ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ওষুধ ও কৃষি শিল্পের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছি।’
ভারতের সঙ্গে যে আলাপ আলোচনা হয়েছে এবং যে-সব সমঝোতা সই হয়েছে, তাতে রাশিয়া থেকে তার সঙ্গে আসা প্রতিনিধিদল সন্তুষ্ট বলে মন্তব্য করেন পুতিন।
পুতিন দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। পালাম বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদি তাকে স্বাগত জানান। শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত নয়টায় দিল্লি থেকে আবারও উড়ে যাবেন ভ্লাদিমির পুতিন।