1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| মঙ্গলবার| সকাল ৬:২৫|

লাকুটিয়ার জমিদার বাড়ি ফিরছে পুরনো রূপে

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

কুয়াশায় ঢেকে থাকা সকালের আলোয় দূর থেকেই চোখে পড়ে এক পুরনো প্রাসাদ লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি। শত বছরের বাতাস-ধুলো পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনের দেয়ালে ছিল ক্ষয়ের গভীর দাগ, ছাদের টালি ঝরে পড়েছিল বহু আগেই। শেওলাধরা বারান্দা, ভেঙে পড়া নকশা, এসব মিলিয়ে জমিদার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছিল। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাকে তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে প্রথম পর্যায়ের সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গত ৪ মে থেকে সংস্কার শুরু করেছিল। ভবনের পুরনো ছাদ সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ বসানো হয়েছে। ভবনের চারপাশে তৈরি হয়েছে নতুন গোলাকার ইটের পিলার, যা ভবনের গঠনকে টিকিয়ে রাখতে সহয়তা করছে।

বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম ধাপে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় মূল ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি আর ছাদ সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। চারপাশে সাদা রঙ করা হয়েছে। যেটা বৃষ্টি থেকে ভবনকে সুরক্ষিত রাখবে। এ ছাড়াও দরজা, জানালা, মেঝের মতো ঐতিহাসিক উপাদানগুলো দ্বিতীয় ধাপের সংস্কারের সময় সংযুক্ত করা হবে।

খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।’

সংস্কারের পর দেখা যায়, ভবনের চারপাশে সেই পুরাতন কাঠামো ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেয়ালের পুরনো অংশ ধরে রাখতে ধাতব সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভেতরের ঘরগুলোতে সংস্কার করা হয়েছে। ভিমের ফাঁকে ফাঁকে পচে যাওয়া কাঠের কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সেখানে কাঠের ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। সেই কাঠের ঠেকনায় বার্নিশ করা হয়েছে। ভেতরের পরিবেশ এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘পুরনো ছবি, নথি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা—সব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। লক্ষ্য একটাই, ভবনটিকে তার আদিরূপের যতটা কাছে নিয়ে যাওয়া যায়।’

ঐতিহাসিক পটভূমি
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, জমিদার রূপচন্দ্র রাই ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি বাড়ে। প্রায় ৫০ একর জমির ওপর তিনি নির্মাণ করেন এই জমিদারবাড়ি।

রূপচন্দ্র রায়ের সন্তানেরা ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। এ পরিবারেরই দুই সদস্য, একজন ইন্দ্রলাল রায় (বিখ্যাত বৈমানিক), অপরজন পরেশলাল রায় (নামকরা বক্সার)। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এই দুটো নাম আলোচিত। এই পরিবারের সঙ্গে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা। দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই ছেলে অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের নাতনি সুশীলা ও চারুবালাকে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৮ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.২০ মিটার প্রস্থের এই দোতলা ভবনে মোট নয়টি কক্ষ আছে। ভবনের সামনে ও পেছনের তিনটি বাঁধানো পুকুর স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাবুর পুকুর’ নামে।

সংরক্ষণে বাধা
সংরক্ষণকাজ যতই এগিয়ে যাচ্ছে জমিদারবাড়ির পাশের বাস্তবতা ততই দৃষ্টি কাড়ছে। ভবনের ঠিক পাশে বিএডিসির গুদাম ও ট্রাক্টর রাখার ঘর দাঁড়িয়ে আছে। পরিবেশবাদীদের মতে, এটি স্থাপনার নান্দনিকতা ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবেদনকে ব্যাহত করছে।

জেলা প্রশাসন বলছে, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানার ভেতরে থাকা প্রায় আট একর জমি ও বড় একটি পুকুর অধিগ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘সংস্কার প্রশংসনীয়, কিন্তু ভবনের পাশের গুদাম না সরালে এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব কমে যাবে।’

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী আলপনা রায় চিঠি লিখে এই বাড়ি সংরক্ষণের দাবি জানান। তার বাবা পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কাছেই তিনি শুনেছেন লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ির গল্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, বরিশালের ইতিহাসের বড় অংশ। প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’

অপেক্ষা এখন ফলাফলের
সংস্কার শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—সংস্কারকাজ শেষ হলে লাকুটিয়ার জমিদারবাড়ি আবারও তার গৌরবময় রূপ ফিরে পাবে।

সাংস্কৃতিক কর্মী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই বাড়ির সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে বাড়িটা ভেঙে যেতে দেখেছি। সংস্কারের জন্য চারুকলা বরিশালের উদ্যোগে সামাজিক কর্মসূচি পালন করেছি। এখন কাজ শুরু হয়েছে, আমরা চাই এটা পুরোপুরি সংরক্ষিত হোক।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
রমজান সময়সূচি

আজ ১৩ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com