
স্পোর্টস ডেস্ক//
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত ধারা বজায় রাখল জিম্বাবুয়ে। কলম্বোতে ২৩ রানের দারুণ জয়ে গ্রুপ ‘বি’-র সমীকরণই পাল্টে দিয়েছে তারা।
ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করা ব্লেসিং মুজারবানি, ব্র্যাড ইভানসের গুরুত্বপূর্ণ আঘাত এবং ব্রায়ান বেনেটের অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংসে ভর করে ইতিহাস গড়ে জিম্বাবুয়ে।
প্রথমে ব্যাট করে ধীরগতির উইকেটে সমান অবদানে ১৬৯/২ তোলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে কখনোই ম্যাচে পুরোপুরি ফিরতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
মুজারাবানি ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট, আর ইভানস ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাওয়ারপ্লেতেই অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ভেঙে দেন।
ম্যাট রেনশ’র ৪৪ বলে ৬৫ রান অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা আশা দেখালেও দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে জিম্বাবুয়ে। ফলে সুপার এইটে ওঠার অস্ট্রেলিয়ার আশা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
শুরুতে তাড়াতাড়ি রান তোলেন তাদিওয়ানাশে মারুমানি। ২১ বলে ৩৫ রান করে বেনেটের ধীর সূচনাকে ভারসাম্য দেন তিনি। বেন ডোয়ারশুইস ও মার্কাস স্টোইনিস শুরুতে সুইং আদায় করলেও পরে আক্রমণে ছন্দ পান মারুমানি।
মাঝে রায়ান বার্ল ও সিকান্দার রাজা দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। ড্রেসিংরুম থেকে বার্তা ছিল—অতিরিক্ত ঝুঁকি নয়, নিয়ন্ত্রণ রেখে এগোতে হবে। বেনেট ৪৩ বলে নিজের দশম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক অর্ধশতক পূর্ণ করেন। শেষদিকে রাজা ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ রান করে দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন।
উল্লেখ্য, আগের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের নায়ক ব্রেন্ডন টেইলর হ্যামস্ট্রিং চোটে এবার দলে নেই। তবু এই জয় জিম্বাবুয়ের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪.৩ ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মুজারাবানির অতিরিক্ত বাউন্স ও নিখুঁত লাইন-লেংথে বিপর্যস্ত হয় টপ অর্ডার।
জশ ইংলিস ও টিম ডেভিডকে বাউন্সারে ফাঁদে ফেলেন তিনি। ইভানসও ক্যামেরন গ্রিন ও ট্রাভিস হেডকে দ্রুত ফিরিয়ে চাপ বাড়ান। স্টোইনিস চোটে ভুগছিলেন, সেটিও অস্ট্রেলিয়ার জন্য ধাক্কা হয়ে আসে।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের কাছ থেকে বিশ্বকাপের আরেকটি অলৌকিক ইনিংসের আশা ছিল, কিন্তু তিনি ৩২ বলে ৩১ রানে থামেন। টনি মুনইয়োঙ্গা ও বদলি ফিল্ডার ক্লাইভ মাদান্দের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে ম্যাক্সওয়েল অন্তত ৭ রান বঞ্চিত হন।
রেনশ’ অবশ্য নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে লড়াই চালিয়ে যান। তবে ম্যাক্সওয়েল আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ১৯তম ওভারে মুজারাবানির ধীরগতির বলে রেনশ’ ক্যাচ তুলে দিলে সব আশা শেষ হয়ে যায়।
শেষ ওভারে ইভানসের রানআউটে পতন ঘটে শেষ উইকেটের, আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে জিম্বাবুয়ে দল ও গ্যালারির সমর্থকরা।