1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| সকাল ১০:১২|

নগরীতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

মিঠু আহম্মেদ, বরিমাল//

এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে, থাকছে না পরের ঘণ্টা। দিন-রাত একই চিত্র বরিশালে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। অচল হয়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছে বিপাকে।

নগরবাসীর জন্য সিটি করপোরেশনের পানি উত্তোলন ও সরবরাহ আর মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর মেশিনও চলে বিদ্যুতে। ফলে নগরীতে খাবার পানির সংকট ও মোবাইল ফোনের যোগাযোগে অচলাবস্থার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে তার কোনো উত্তর নেই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে। তাদের মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে যেভাবে দেওয়া হয় সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বুধবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে এটা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা।

এই খরতাপে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে লোডশেডিং। কয়েকদিন ধরে চলছে এই পরিস্থিতি। দিনের আলোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৫-৬ ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। সন্ধ্যার পরও একই পরিস্থিতি।

রাত ২-৩টার পরও বন্ধ হচ্ছে না লোডশেডিং। এমনকি সরকারি ছুটির দিনেও মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ। নগরী ও আশপাশের উপজেলাসহ ঝালকাঠি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় বরিশাল থেকে। এখানে থাকা কয়েকটি সাবস্টেশনের মাধ্যমে ওই সরবরাহ দেয় ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)।

সাবস্টেশনগুলোতে বিদ্যুৎ আসে জাতীয় গ্রিড থেকে। এখানকার কর্মকর্তারা জানান, প্রায় এক মাস ধরে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও দেওয়া হচ্ছে না তাদের। ফলে লোডশেডিং করে সামাল দেওয়া হচ্ছে পরিস্থিতি।

কখনো কখনো সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে পর্যন্ত নেমে আসে। তখন দেখা যায়, একসঙ্গে ২-৩টা উপজেলা অথবা নগরীর প্রায় অর্ধেক এলাকায় দিতে হচ্ছে লোডশেডিং। বরিশাল নগরীর রূপাতলী সাবস্টেশনের আওতায় থাকা সরবরাহ লাইনগুলোতে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট।

পিক আওয়ারে তা কখনো কখনো ১২০ মেগাওয়াট পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, ‘নগরীর বিশাল একটি অংশ, ঝালকাঠি জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলাসহ পলাশপুর সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ যায় এখান থেকে।

বুধবার দুপুরে ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এই সাবস্টেশনকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয় মাত্র ৫১ মেগাওয়াট। ফলে সাপ্লাই ফিডারগুলোতে ১ ঘণ্টা পর ১ ঘণ্টা লোডশেডিং দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় পরিস্থিতি।

এতে প্রতিবারে গড়ে প্রায় ৬-৭টি ফিডারে বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এরপরও লোড কমানোর জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয় জাতীয় গ্রিড থেকে।’

নগরীর পলাশপুর সাবস্টেশনের আওতায় থাকা ৬টি ফিডারে বুধবার দুপুরে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ পায় তারা।

এই সাবস্টেশনের অধীনেই চলে নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বাজার রোড, চকবাজার ও সদর রোড। অধিকাংশ ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থানও এর অধীনে।

গির্জামহল্লা এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, ‘সকাল ১০টায় দোকান খোলার পর থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে ৪ বার বিদ্যুৎ গেছে। প্রতিবার ১ ঘণ্টা করে বন্ধ ছিল। মাঝে একবার দেড় ঘণ্টা। ওদিকে আবার সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করতে হবে দোকান। এভাবে চললে ব্যবসা কী করে টিকিয়ে রাখব আমরা?’

কলাডেমা সাবস্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় নগরীর একাংশ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলায়। স্টেশনটি নিয়ন্ত্রণ করে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বুধবার বিকালে এরই স্টেশনের আওতাধীন ফিডারগুলোতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা ৯২ মেগাওয়াট তখন জাতীয় গ্রিড থেকে তাদের দেওয়া হয় ৫২ মেগাওয়াট।

বরিশাল নগরীর কাশিপুর, বিসিক শিল্প এলাকা এবং ভাটিখানা এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয় এই সাবস্টেশন থেকে। পাশাপাশি বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে তারা।

এ সাবস্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইল ফোনে গ্রাহকদের গালাগাল শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সরবরাহের যা পরিস্থিতি তাতে একসঙ্গে অনেকগুলো ফিডার বন্ধ রাখতে হয়।

টানা এক ঘণ্টার বেশি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয় না। নির্দেশনা আছে শহরাঞ্চলে বেশি সরবরাহ দিতে। যে কারণে উপজেলা ও গ্রামগুলোতে টানা দুই-আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ যদি না থাকে তো বিদ্যুৎ দেব কোথা থেকে?’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নগরীতে খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করতে হয়। এই পানি উঠানো ও সরবরাহে ব্যবহৃত পাম্প চলে বিদ্যুতে।

বেশ কিছুদিন ধরে পানি উত্তোলন পাম্পগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানো যাচ্ছে না। পানির রিজার্ভার পূর্ণ করতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাম্প চালাতে হয়। সেই সময়টুকু না দেওয়া হলে তো পানি সরবরাহ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের টাওয়ার স্টেশনগুলোতে পাওয়ারের ব্যাকআপ হিসাবে আইপিএস ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে এই আইপিএসগুলো সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়।

আইপিএসগুলো চার্জ হতে টানা ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকতে হয়। যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে এসব আইপিএস ঠিকমতো চার্জ হতে পারছে না। এটা চলতে থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা পুরো অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভর আমাদের এই অঞ্চলে এখন চাষাবাদের সময়।

বিদ্যুতের অভাবে জমিতে সেচ দেওয়া যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাব যে কতভাবে অর্থনীতির ক্ষতি করে তা বলে বোঝানো যাবে না।

এমনিতেই জ্বালানি সংকটে ক্রমেই পঙ্গু হয়ে পড়ছে যোগাযোগব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত আসতে একটি গণপরিবহণকে ৪-৫ বার পাম্পে ঢুকতে হচ্ছে তেল নিতে। তার ওপর এই বিদ্যুৎ সংকট সব অচল করে দিচ্ছে। যে কোনো উপায়ে সমস্যা সমাধানে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। নইলে কৃষিশিল্পসহ সব সেক্টর মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com