
স্পোর্টস ডেস্ক//
বাবর আজমের অর্ধশতক আর উসমান তারিকের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে দাপুটে জয় পেল পাকিস্তান। ৬৯ রানে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে তারা শুধু নিজেদের শীর্ষফর্মই ধরে রাখল না, শ্রীলংকার ফাইনালে ওঠার পথও খোলা রাখল। নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের তোলা ১৯৫ রানের লক্ষ্য জিম্বাবুয়ের জন্য শুরু থেকেই অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে থাকে। পর্যাপ্ত আগ্রাসন দেখাতে না পারা ব্যাটিং লাইনআপ ১২৬ রানে গুটিয়ে যায়।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাইম আইয়ুব পাওয়ারপ্লে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। দুইটি ছক্কায় ছন্দ ধরেছিলেন, তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এরপর সাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজম সুশৃঙ্খল ব্যাটিংয়ে ইনিংস গুছিয়ে নেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত জুটি ফখর জামান ও মিডল অর্ডারের জন্য বড় রানের মঞ্চ তৈরি করে দেয়।
১৯৬ রানের চাপ মাথায় নিয়ে আক্রমণাত্মক খেলতেই হতো জিম্বাবুয়েকে-কিন্তু সেই ঝুঁকির ফল হলো ধস। তাদিওয়ানাশে মারুমানির নরম পুশে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায়, তারপর ধারাবাহিকভাবে ব্রায়ান বেনেট ও ব্রেন্ডন টেলরের পতন। কিছুটা প্রতিরোধ আসে রায়ান বার্ল ও সিকান্দার রাজার ৩৪ রানের জুটিতে।
তারিকের স্পিন ঝড়ে প্রতিপক্ষ যখন বিপর্যস্ত, তখন এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান বার্ল। বেশ কৌতূহলের বিষয়, তিনি অর্ধশতকের কাছাকাছি পৌঁছানো পর্যন্ত স্ট্রাইক ফার্ম করতে অনীহা দেখান।
শেষ পর্যন্ত নাসিম শাহকে ছক্কায় তুলে দুর্দান্তভাবে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন। তবে সঙ্গী না পাওয়ায় দলের গন্তব্য ছিল একটাই-বড় হার।
আইয়ুবের ঝড় থামার পর ব্যাট হাতে ফের রানমুখী হন ফারহান ও বাবর। বিপরীতধর্মী ব্যাটিংয়ে দু’জন এগোতে থাকেন-ফারহান আক্রমণাত্মক, বাবর শুরুতে ধীরস্থির। ফারহান প্রথম ২০ বলে করেন ৩২ রান, সেখানে বাবরের সংগ্রহ ছিল ১৫।
১২তম ওভারে বাবরের দুই বাউন্ডারি পাকিস্তানকে গতি ফেরায়। ফারহান ৬৩ রানে ফিরলেও ততক্ষণে শতরান জুটি গড়ে দলকে বড় রানের দিকে নিয়ে গেছেন। বাবরও ৭৪ রানের ইনিংসে চুপচাপ শুরুর ঘাটতি পুষিয়ে নেন।
শেষ পাঁচ ওভারে পাকিস্তান ইনিংসের তাণ্ডব শুরু হয়। ফাহিম ও নওয়াজের ফায়ারওয়ার্কস না হলেও বাবর রাজাকে ও ইভানসকে টার্গেট করে রানরেট টেনে তোলেন।
শেষ ওভারে এলো আসল বিস্ফোরণ-ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৭ নম্বরে নেমে ফখর তিন ছক্কা ও এক চারে ইভানসকে তুলোধোনা করেন। শেষ বল নো-বল হওয়া ও ফ্রি-হিট ছক্কা-সব মিলিয়ে সে ওভারে ২৫ রান।
অফস্পিনার উসমান তারিক প্রথমে টনি মুন্নিয়ঙ্গাকে সুইপ মিসে তুলে নেন, পরের বলেই তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া বোল্ড। হ্যাটট্রিক বলটিতে চারদিক ঘিরে ফিল্ডার।
সেখানে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নিলেন-আকাশে তুললেন! সহজেই লং-অন ক্যাচ নিয়ে তারিককে উপহার দিলেন স্মরণীয় হ্যাটট্রিক, আর জিম্বাবুয়েকে ঠেলে দিলেন বড় ব্যবধানে পরাজয়ের দিকে।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ৬৯ রানের জয় শুধু দুই পয়েন্টই নয়-জিম্বাবুয়ের নেট রানরেটে বড় ক্ষত তৈরি করল, আর শ্রীলংকাকে ফাইনালের দৌড়ে টিকিয়ে রাখল।