1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

সংঘাতের উত্তাপ ছড়াচ্ছে নতুন ফ্রন্টে ইরানে মার্কিন হামলা থামলেও

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে।

একই সময়ে ইরান অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এসব ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাত নতুন করে জটিল রূপ নিয়েছে।

ইরানে টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শনিবার নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কে অবশ্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ওই দিন ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা স্থাপনায় কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে প্রায় প্রতিদিনই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল তেহরান।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানের পথকে অগ্রাধিকার দেন। তবে আলোচনায় না বসলে ইরানকে কী ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

অস্ত্রের মজুত ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন ট্রাম্প।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সংঘাতের বিস্তার, মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের ওপর বাড়তি চাপ, উপসাগরীয় মিত্রদের অসন্তোষ এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে হোয়াইট হাউসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেন। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের এক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানায়, আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলার দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা বন্ধ রাখলেও ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘর্ষে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেবও নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমনকি ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধও আবার তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, শনিবার সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু এলাকার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

রয়টার্সের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে জিজানে একটি তেল শোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ওই শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। হামলার বিষয়ে আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়ানবুর একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।

ইয়েমেনে ফের গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিমানবাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুতিদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষই বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন করে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনে অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমে এলেও চলতি মাসে সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়ে। এর পর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে হুতিরাও আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় হুতি গোষ্ঠী। তাদের নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনা ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

কাস্পিয়ান সাগরেও বাড়ছে উত্তেজনা

এদিকে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। ইরান এ ঘটনাকে ‘বৈরী ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ইরানের জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণের জন্য সংগৃহীত স্যাটেলাইট তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করছে।

এসব তথ্য ব্যবহার করে তেহরান ওই অঞ্চলে হামলা চালানোর সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে থেমে থাকলেও সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেন, সৌদি আরব এবং কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com