1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ৯:৪০|

টাকা দিলেই মিলবে শপিং ব্যাগ টানার লোক

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ ডেস্ক//

এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন, আর আপনার হাতের ভারী শপিং ব্যাগগুলো বয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্য কেউ। কিংবা আপনি যখন কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন আপনার শিশুসন্তানের স্ট্রলারটি (বাচ্চা চড়ানোর গাড়ি) ঠেলে দিচ্ছে পরম যত্নে। দিল্লির এক জনাকীর্ণ বাজারে ঠিক এই সুবিধাই দিচ্ছে নতুন একটি স্টার্টআপ।

ভারতের রাজধানী দিল্লির লাজপত নগর বাজারে চালু হওয়া এই অভিনব সেবার নাম ‘ক্যারিমেন’। গত এপ্রিল মাসে দুই তরুণী উদ্যোক্তার হাত ধরে শুরু হওয়া ব্যবসাটি এরই মধ্যে গ্রাহকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে এটি ভারতের মধ্যবিত্তের ‘প্রভুত্ববাদী মানসিকতা’ এবং শ্রম শোষণ নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই সেবা?
‘ক্যারিমেন’ মূলত বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের সহায়তার জন্য পুরুষ ও নারী সহকারী সরবরাহ করে। লাজপত নগর বাজারে আসা যে কোনো ক্রেতা সর্বোচ্চ চার ঘণ্টার জন্য এই সহকারী ভাড়া করতে পারেন।

স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতা ঋতু কান্দারি শ্রীবাস্তব এবং কনিষ্কা মালহোত্রা—উভয়েই ছোট সন্তানের মা। ঋতু বলেন, ‘গত বছর আমি আর কনিষ্কা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে লাজপত নগরে গিয়েছিলাম। সব শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে বাচ্চাদের স্ট্রলার চালানো আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তখনই মনে হয়, যদি টাকার বিনিময়ে এমন কোনো সাহায্য পাওয়া যেত, তবে কেনাকাটার জন্য পরিবারের সদস্যদের পিড়াপিড়ি করতে হতো না।’

দিল্লির লাজপত নগরের মতো ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক শপিং মল নয়। এগুলো খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড ভিড়ের বাজার, যেখানে ফুটপাতগুলো ভাঙাচোরা কিংবা হকারদের দখলে থাকে। ফলে সেখানে হেঁটে চলাই দায়। এই সমস্যা থেকেই জন্ম নেয় ‘ক্যারিমেন’।

ঋতুর বক্তব্য, ‘এটি কোনো দাসত্ব বা সামন্তবাদী মানসিকতা নয়। আমরা শুধু তাদের সাহায্য করছি, যাদের এই ভিড় বাজারে একা চলাফেরা করতে সমস্যা হয়।’

প্রশংসাকারীদের মতে, এটি একটি দারুণ আইডিয়া। ভারতে যেখানে শহরের বেকারত্ব পাঁচট শতাংশের বেশি, সেখানে এই মডেলটি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

তবে সমালোচকরা একে বড়লোকের ‘অলসতা’ এবং ‘প্রভুত্ববাদী মানসিকতা’র চরম বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন। শ্রম অধিকার কর্মী ও সমাজবিজ্ঞানী আকৃতি ভাটিয়ার মতে, ‘শুনতে মনে হচ্ছে এটি উচ্চবিত্ত নারীদের জন্য তৈরি, যারা মেনিকিউর নষ্ট করতে চান না।’ অনেকে একে আধুনিক দাসত্ব বলেও অভিহিত করেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঋতু বলেন, ‘আমরা কাউকে জোর করছি না। আমাদের কর্মীরা সবাই স্থায়ী বেতনের কর্মচারী, তারা কোনো গিগ ওয়ার্কার (চুক্তিভিত্তিক কর্মী) নন।’

গত ছয় সপ্তাহে এই সেবা যারা নিয়েছেন, তাদের বড় অংশই অন্তঃসত্ত্বা নারী, ছোট সন্তানের মা, বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি।

ক্যারিমেন হিসেবে কাজ করা ১৮ বছর বয়সী আনন্দ কুমার জানান, তার প্রথম গ্রাহকই ছিলেন একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী। আনন্দের কাজ শুধু ব্যাগ বহন করাই নয়, তিনি ছাতা ধরা, ফোল্ডিং চেয়ার বহন করা, পানির বোতল ও পোর্টেবল চার্জার এগিয়ে দেওয়া এবং বাজারের সঠিক পথ দেখানোর কাজও করেন। আনন্দ বলেন, ‘আগে শাড়ির দোকানে বা ফুড ডেলিভারির কাজ করতাম। তার চেয়ে এখানে বেতন ভালো এবং সম্মানও পাওয়া যায়।’

বাজারে আসা ৬০ বছর বয়সী যতীন্দর ও তার স্ত্রী অনিতা সাভারওয়াল প্রথমবার এই সেবা নিয়ে বেশ খুশি। ভারী ব্যাগ থেকে মুক্তি পেয়ে অনিতা বলেন, ‘এখন আমরা ব্যাগ বহনের ঝামেলা ছাড়াই স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারছি। যাদের প্রয়োজন, তারা এই সেবা নেবেই।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আপাতত মাত্র সাতজন কর্মী নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করলেও, আগামী জুলাই মাসে দিল্লির ব্যস্ততম চাঁদনি চক বাজারে শাখা খোলার পরিকল্পনা করছে ‘ক্যারিমেন’। ধীরে ধীরে পুরো ভারতে এই সেবা ছড়িয়ে দিতে চায় প্রতিষ্ঠাতা জুটি।

তবে শ্রম কর্মী আকৃতি ভাটিয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভারতে সস্তা শ্রমের সহজলভ্যতা এবং ইউনিয়ন না থাকার কারণে কোম্পানিগুলো প্রায়ই কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বড় ফান্ড পাওয়ার পর ‘ক্যারিমেন’ তাদের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com