
মাসুদ আহমেদ, বানারীপাড়া//
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আহমদাবাদ হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আ. হালিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল সার্টিফিকেট, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডসহ নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য মো. আ. রহিম ফরাজী মাদ্রাসার সভাপতি বরাবর এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ মো. আ. হালিম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটির (সিএল) বিধান থাকলেও তিনি গত ১৯ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূতভাবে মোট ১৬ দিনের ছুটি ভোগ করেন।
পরবর্তীতে গভর্নিং বডির সদস্যরা এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি এটিকে নিজের ‘ব্যক্তিগত ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যান। এছাড়া, অসুস্থতার অজুহাতে দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকলেও কোনো মেডিকেল ছুটি না নিয়ে নিজের ক্ষমতাবলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষের দাখিল, আলিম ও ফাজিল সার্টিফিকেটের একাধিক জায়গায় ঘষামাজা ও কাটাকাটি রয়েছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি জাল সনদের মাধ্যমে চাকরিতে যোগদান করেছেন।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অডিট কমিটির নিরীক্ষায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি তা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মাদ্রাসার এক নিরাপত্তারক্ষীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ফাইলগুলো পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দিতে বাধ্য করেন অধ্যক্ষ।
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেই ফাইল উদ্ধার করার পর ওই নিরাপত্তারক্ষী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর বাইরেও মাদ্রাসার গাছ ও পুরাতন আসবাবপত্র নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি এবং ছাত্রীর শ্লীলতাহানির দায়ে পূর্বে বরখাস্ত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী মো. আ. রহিম ফরাজী জানান, অধ্যক্ষের এসকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও খারাপ আচরণের কারণে এলাকার মানুষ ও অভিভাবকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ওপর। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে এসব বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি।
মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার মান বজায় রাখার স্বার্থে তদন্ত সাপেক্ষ এই সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার দাবি করেছেন মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।