1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

বার্সার দাপুটে জয় রাফিনিয়া-ইয়ামালের জোড়া গোলে

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক//

রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল দুজনই জোড়া গোল করেছেন। তাদের নৈপুণ্যে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার বাড়ানো বল থেকে গোল করে রায়োকে এগিয়ে দেন সার্জিও কামেয়ো।

তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। ১৯ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। দুই মিনিট পর দারুণ এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই বার্সেলোনা এখন ১২ গোল করেছে।

ম্যাচ শেষে কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন পয়েন্ট। মৌসুমের শুরুটা আমাদের ভালো হয়েছে, আমরা এটাই চেয়েছিলাম।

প্রথমার্ধে আমরা খুব ভালো খেলেছি। যা দেখেছি, তা আমার খুব ভালো লেগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ভালোভাবে চাপ তৈরি করে এবং গোলও করে।

তখন আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে রায়ো প্রথম ও দ্বিতীয় গোল করার পর আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তা ভালো ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু মুহূর্তে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে। কারণ বল নিজেদের দখলে রেখে খেলাটাও আমাদের কৌশলের অংশ। ব

ল নিজেদের কাছে থাকলে শক্তি পুনরুদ্ধার করাও সহজ হয়। শেষ পর্যন্ত এসব জায়গায় আমাদের আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে।’

স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামালের প্রথমার্ধের দুর্দান্ত গোলটি ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাঁর প্রথম। তবে সেটিই শেষ নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার জালের দেখা পান তিনি।

ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘সে সবসময় উন্নতি করতে চায় এবং সে তা পারেও। আমি তাকে নিয়ে খুবই খুশি। আজ সে যেভাবে খেলেছে, ফুটবল যেভাবে খেলেছে, তা দেখাটা অসাধারণ। আমার কাছে সে অবিশ্বাস্য এক পর্যায়ে রয়েছে।’

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে বসেন রায়োর ফ্লোরিয়ান লেজুন। এরপর কামেয়ো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও রাফিনিয়া ও ইয়ামালের আরও দুই গোলে শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া রায়ো শুরু থেকেই বার্সেলোনার ওপর আক্রমণাত্মক চাপ তৈরি করে। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার নিখুঁত পাস থেকে কামেয়োর গোলেই নু ক্যাম্পের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় তারা। চলতি মৌসুমে এটাই ছিল বার্সেলোনার হজম করা প্রথম গোল। তবে গোল খেয়েই দ্রুত জেগে ওঠে স্বাগতিকরা।

রাফিনিয়ার শট সরাসরি রায়োর গোলরক্ষক দানি কার্দেনাসের হাতে জমা পড়ে। ইয়ামালও অল্পের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া রায়োর রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

এর মাত্র দুই মিনিট পরই ইয়ামাল নিজের প্রথম গোলটি করেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে ওপরের কোণে দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও বার্সেলোনার হয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন কার্দেনাস। এরপর মার্ক বার্নালের শটও ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন রায়োর গোলরক্ষক।

গর্ডনকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই গর্ডনের অনেক গতি ছিল এবং বল পায়ে সে খুবই পরিষ্কার ছিল। গোলের আগে দুটি পাসেও সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আমাদের দলে তাকে পাওয়া, পাশাপাশি করিম, রাফা ও লামিনেকে পাওয়া—এই জায়গাগুলোতে আমাদের গতি বাড়িয়েছে। এটা ভালো বিষয়। আমি তাদের নিয়ে খুশি।’

দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় বার্সেলোনার তৃতীয় গোল আসে কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন রায়োর লেজুন। এরপর বার্সেলোনার জুল কুন্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে উনাই লোপেসের কর্নার থেকে পায়ে বল লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন কামেয়ো।

গর্ডন এরপরও রায়োর রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে থাকেন। একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর, যার মধ্যে বক্সের ভেতরে ফেরমিন লোপেসের শট আটকে যাওয়াও ছিল, গর্ডনের দারুণ এক ব্যাকহিল পাস থেকে চতুর্থ গোলটি করেন রাফিনিয়া।

নম্বর নয় পজিশনে রাফিনিয়ার খেলা নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই আমি তার কাছ থেকে এমনটাই আশা করি। সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, বিশ্বমানের খেলোয়াড়।

অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়াটাও তার জন্য ইতিবাচক বিষয়। এই মুহূর্তে সে ঠিক সেটাই দেখাচ্ছে, যা আমাদের তার কাছ থেকে প্রয়োজন।’

শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও রায়ো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মিনিটে করিম আদেয়েমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল।

তাতেই ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা এবং মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে আবারও লা লিগার শীর্ষে উঠে যায় তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com