
ছবুর হোসেন, বরিশাল//
দেশজুড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিভাঙ্গার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিখাতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের বাহন হিসেবে শহর-গ্রামে এটি জনপ্রিয় হলেও, বর্তমানে এই যানটির কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার খবর আসছে।
মাঠের কাজ ছেড়ে কৃষি শ্রমিকদের রিক্সা চালনার দিকে ঝুঁকে পড়া এবং সেচ কাজে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে চরম সংকটে পড়েছেন চাষিরা।
অনলাইন পোর্টালের বিশেষ অনুসন্ধানে কৃষিখাতে ব্যাটারি রিক্সার প্রধান তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব উঠে এসেছে:
* মাঠ ছাড়ছেন শ্রমিকেরা: গ্রামীণ যুবসমাজ এবং প্রান্তিক কৃষি শ্রমিকেরা এখন মাঠের কঠোর পরিশ্রমের কৃষিকাজ ছেড়ে ব্যাটারি রিক্সা চালানোর দিকে ঝুঁকছেন। রিক্সা চালালে প্রতিদিন সহজে এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিশ্রমে নগদ টাকা আয় করা যায়। এর ফলে ভরা মৌসুমেও ধান কাটা, রোপণ বা জমি প্রস্তুত করার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
* আকাশচুম্বী উৎপাদন খরচ: তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে বাজারে কৃষি শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকের ফসল উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক চাষি লোকসানের ভয়ে চাষাবাদের জমিও কমিয়ে দিচ্ছেন।
* সেচ কাজে বিদ্যুতের ঘাটতি: লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিভাঙ্গা প্রতিদিন রাতে চার্জিং পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ গ্রাস করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালনে। লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে ফসলের মাঠে সেচ পাম্প চালানো ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে একরের পর একর ফসল।
ভোগান্তিতে প্রান্তিক কৃষকেরা
স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগে যেখানে ফসলের মৌসুমে শ্রমিকের অভাব হতো না, এখন সেখানে দ্বিগুণ টাকা দিয়েও লোক পাওয়া যায় না। যুবকেরা মাঠের কাজ বাদ দিয়ে রাস্তায় রিক্সা নিয়ে নেমে পড়েছেন। ফলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গ্রামীণ শ্রমশক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত রূপান্তর এবং বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান দ্রুত না করা হলে দেশীয় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তৈরি এবং কৃষিকে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি ব্যাটারি রিক্সার যত্রতত্র চলাচল ও চার্জিং ব্যবস্থা নিয়মের মধ্যে আনা এখন সময়ের দাবি।