1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| সোমবার| সকাল ৯:০৩|

পটুয়াখালীতে পথকুকুরের জন্য উষ্ণতার ছোঁয়া

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

ছগির হোসেন//

শীতের রাতে পটুয়াখালী পৌর শহরের দৃশ্য এবার একটু আলাদা। কোথাও ফুটপাতের ধারে, কোথাও দোকানের সামনে, আবার কোথাও নিরিবিলি কোনো সড়কের মোড়ে পড়ে আছে পাটের বস্তা। কিন্তু কাছে গিয়ে তাকালেই বোঝা যায়, সেগুলো ফাঁকা নয়। বস্তার ভেতর ভরা খড়কুটো।

আর সেই বস্তার ওপর গুটিসুটি মেরে শুয়ে কিংবা বসে আছে পথের কুকুরগুলো। বড় কোনো আয়োজন নয়, আলো ঝলমলে কোনো কর্মসূচিও নয়। তবু এই নীরব দৃশ্যের ভেতরই লুকিয়ে রয়েছে পথকুকুরদের জন্য গভীর ভালোবাসা।

কনকনে শীতে পথের কুকুরগুলো যেন একা না থাকে, এই ভাবনা থেকেই উদ্যোগটি নিয়েছেন ‘অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী’ নামের সংগঠনের সদস্যরা।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা নামার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শীত উপেক্ষা করে শহরজুড়ে চষে বেড়ান তাঁরা। পটুয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কুকুরদের জন্য শোবার জায়গা হিসেবে খড়কুটোভর্তি পাটের বস্তা বিছিয়ে দেন।

শহরের যেসব জায়গায় রাতে পথকুকুরের আনাগোনা বেশি, সেসব স্থানই বেছে নেওয়া হয়েছে। ঠাণ্ডা কংক্রিটের মাটিতে শোয়ার বদলে এই বস্তার ওপর শরীর এলিয়ে দিলে একটু হলেও উষ্ণতা মেলে।

অনেক জায়গায় দেখা গেছে, বিছানা পেতে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুকুরগুলো সেখানে গিয়ে বসেছে বা শুয়ে পড়েছে। সংগঠনের সদস্যদের ভাষায়, পাটের বস্তা আর খড়কুটো খুব সাধারণ জিনিস। কিন্তু শীতের রাতে এই সাধারণ জিনিসই হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ আশ্রয়।

ভালোবাসা মানে সব সময় বড় কিছু করা নয়; কখনও কখনও পাশে দাঁড়ানোই যথেষ্ট। অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর পরিচালক আবদুল কাইউম বলেন, অতিরিক্ত শীতে অনেক কুকুর অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

কিছু কুকুরের বাচ্চা মারাও গেছে। ওরা কথা বলতে পারে না। কিন্তু কষ্টটা বোঝা যায়। সেই জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ। আবদুল কাইউম আরো বলেন, উদ্যোগের প্রথম দিন পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০টি খড়কুটো ভর্তি পাটের বস্তা বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে শতাধিক কুকুরের রাত কিছুটা হলেও বদলে গেছে। অনেক জায়গায় বিছানা পেতে দেওয়ার পরপরই কুকুরগুলো সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

এই মানবিক উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনও। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী উদ্যোগটিতে সহযোগিতা করেছেন। পৌর প্রশাসক মো. জুয়েল রানা বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ।

কুকুরদের জন্য বস্তা বিতরণে পৌরসভার গাড়ি দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও জানানো হয়েছে, যেন এসব বিছানা কেউ সরিয়ে না ফেলে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগের পেছনে কোনো প্রচারের আলো নেই, নেই বড়সড় আয়োজনের ছাপ।

রয়েছে শুধু কয়েকজন মানুষের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা, শীতের রাতে অবলা প্রাণীদের জন্য একটু উষ্ণতা রেখে যাওয়ার। তিনি বলেন, পটুয়াখালীর অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা পাটের বস্তাগুলো তাই শুধু বিছানা নয়, মানুষের সহমর্মিতার নীরব চিহ্ন। আগামী দিনে এই সহমর্মিতার চিহ্ন আরো বিস্তৃত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com