1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

টাকা ব্যবহারের সুযোগ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ ডেস্ক//

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে টাকার ব্যবহার বাড়াতে নতুন একটি কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নামে পরিচালিত নন-রেসিডেন্ট টাকা বা ভোস্ট্রো হিসাব ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক লেনদেন টাকায় নিষ্পত্তি করা যাবে।

আজ বুধবার নন-রেসিডেন্ট টাকা ভোস্ট্রো হিসাব পরিচালনার বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ জমা না নিয়েও বাংলাদেশে আমদানির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থের ভিত্তিতে বাণিজ্য অংশীদার দেশের ব্যাংকের নামে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই কাঠামোর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে নির্দিষ্ট বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে টাকায় বাণিজ্য নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেন নিষ্পত্তির বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন একটি মাধ্যম।

নতুন ব্যবস্থায় এলসি, চুক্তি ও ইনভয়েস অবাধে বিনিময়যোগ্য বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পাদন করতে হবে। এরপর প্রচলিত বিনিময় হার ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য টাকায় রূপান্তর করে ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি করা হবে।

আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানিকারকের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ টাকা ভোস্ট্রো হিসাবে জমা হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের পাওনা পরিশোধ করা যাবে ওই হিসাব থেকে। ফলে একই হিসাবের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি-দুই ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকবে।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় এডি ব্যাংকগুলো অবাধে বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় পাওয়া রেমিট্যান্সের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যাংকের নামে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খুলতে পারত। নতুন কাঠামোতে এ ব্যবস্থার পাশাপাশি আমদানির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থের ভিত্তিতেও হিসাব পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আমদানি ও রপ্তানির বিপরীতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।

টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণকারী রপ্তানিকারকরাও বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুবিধা নিতে পারবেন। সংরক্ষিত এসব বৈদেশিক মুদ্রা রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ঋণ পরিশোধসহ অগ্রাধিকারভুক্ত বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এতে টাকায় রপ্তানি মূল্য গ্রহণের পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধের সুযোগও থাকছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, টাকা ভোস্ট্রো হিসাবে জমা থাকা অতিরিক্ত অর্থও নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ।

প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এসব অর্থ বাংলাদেশের নিবাসী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী হিসাবের স্থিতি বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কাঠামোতে বিদ্যমান ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা, রিপোর্টিং ও পরিপালন ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন পদ্ধতি চালু হলেও বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রতিবেদন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিপালনসংক্রান্ত শর্তগুলো বহাল থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com