1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

ঝালকাঠির নলছিটিতে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, আটক ২

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোদন্ডা এলাকায় একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে নলছিটি থানা পুলিশ।

এ সময় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ ৩ হাজার ১৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের জুয়া আইনের ১৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও চারজনের নাম উল্লেখ করে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে।

পুলিশের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তালতলা বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গোদন্ডা গ্রামের হাবিব হাওলাদারের বসতঘরে জুয়ার আসর বসেছে। খবর পেয়ে এসআই (নিরস্ত্র) সুফল চন্দ্র শাহার নেতৃত্বে নলছিটি থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।News

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে হাবিব হাওলাদার (৩০) ও বাদল হাওলাদার (৬০)কে আটক করা হয়।

এ সময় সোহাগ হাওলাদার (৩০), ইমরান সরদার হিরু, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, নান্না হাওলাদার (৫০), খলিল হাওলাদার (৪০) এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে দুই সেট তাস (মোট ১০৪টি), জুয়ার বোর্ড হিসেবে ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিকের সাদা বস্তা এবং নগদ ৩ হাজার ১৫০ টাকা জব্দ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ধৃত ও পলাতক আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে গোদন্ডা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছেন বলে স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সুবিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর পরিচালিত হয়ে আসছে।

তাদের দাবি, একজন যুবদল নেতা ও একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের নেতৃত্বে এসব আসর পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় ওই দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদের আটক করা হয়নি এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না কিংবা কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নলছিটি থানার এসআই সুফল চন্দ্র শাহা বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পাশের পানিতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে চারজনকে পলাতক আসামি এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম জানা যায়। যাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে তাদের নাম উল্লেখ করে এবং বাকিদের অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান যেন কেবল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর সঙ্গে জড়িত সংগঠক, পৃষ্ঠপোষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com