
নিজস্ব প্রতিবেদক//
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘এক শিক্ষার্থী এক কোরআন’ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র আল কোরআন তুলে দেওয়া হয়।বরিশাল ট্যুর গাইড
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন,“বাংলাদেশ জুড়ে ইসলামী ছাত্রশিবির যে শিক্ষার্থী-বন্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা শহীদদের ত্যাগ ও ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণেরই ফল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি।”
সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী এক কোরআন’ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে আল কোরআনের কপি পৌঁছে দেওয়া। এটি নৈতিক জাগরণ ও আত্মশুদ্ধির এক আন্তরিক প্রয়াস।”
কুরআন গ্রহণকারী শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরী রুহিন বলেন, আজ কুরআন শরীফ হাতে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ব্যস্ততার মাঝেও যেন আল্লাহর বাণী জানার ও অনুসরণের সুযোগ পাই—এই দোয়া করি। এমন উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”
আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন বলেন, আজকের এই কুরআন বিতরণ কর্মসূচি আমার জীবনে এক স্মরণীয় মুহূর্ত। আমরা জ্ঞানের খোঁজে নানা বই পড়ি, কিন্তু জীবনের প্রকৃত দিকনির্দেশনা তো আল্লাহর বাণীতেই নিহিত।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের ছাত্র আন্দোলন বিষয়ক মোকাব্বেল শেখ জানান, আলহামদুলিল্লাহ, প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর কাছে পবিত্র কুরআন পৌঁছে দিতে পেরেছি। আরও প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যাদেরকেও দ্রুত কুরআন পৌঁছে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে মোট ৩,৫০০ কপি কুরআন।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক সমালোচনাই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য। পারস্পরিক সহাবস্থান ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আগামীর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।”
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আলাদা বসার ব্যবস্থা। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কুরআনের আয়াত ও উপদেশসম্বলিত ব্যানারে সজ্জিত ছিল মুক্তমঞ্চ এলাকা।