1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ| ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| রবিবার| দুপুর ১:০৮|

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, প্রশাসনের নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকার অব্যাহত রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা ও স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি থাকা সত্ত্বেও অসাধু কিছু জেলে ও ব্যবসায়ী রাতে-দিনে নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ ধরছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী- ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাবুগঞ্জের আগরপুর, নতুন চর, মিরগঞ্জ, ছোট মীরগঞ্জ, দোয়ারিকা, দেহেরগতি ও রাকুদিয়া এলাকায় প্রতিদিনই ছোট নৌকা ও ট্রলারে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় কিছু প্রভাবশালী মহল এই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে অবাধে ইলিশ শিকার করছেন।

এছাড়া বিভিন্ন গ্রামীণ হাটে গোপনে ইলিশ বিক্রির খবর পাওয়া গেছে—যেখানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০–১৬০০ টাকা এবং ছোট জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০–৫০০ টাকায়। এতে একদিকে মা ইলিশের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ টিম বিভিন্ন নদীতে টানা অভিযান পরিচালনা করেছে।

অভিযানে মোট ৬৯ কেজি মা ইলিশ, ১.৩১ লক্ষ মিটার অবৈধ জাল ও ৪টি নৌকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত নৌকা নিলামে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
এছাড়া ৫ জেলেকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ জেলেকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে টহল দুর্বল থাকায় অনেক এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা অব্যাহত রয়েছে—যা অভিযানের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন তারা।

প্রতি বছর অভিযানের সময় জব্দ ইলিশ এতিমখানা ও আশ্রয়কেন্দ্রে বিতরণ করা হলেও, এবার তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ কারণে অনেকে মৎস্য অধিদপ্তরের এই অভিযানকে আংশিক ব্যর্থ হিসেবে দেখছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল সালেহীন বলেন, অভিযানের ফলে মা ইলিশ সংরক্ষণ কিছুটা নিশ্চিত হলেও, প্রত্যন্ত এলাকায় আইন অমান্য করার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ জানান, “আমরা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছি এবং কঠোর অবস্থানে আছি। মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com