1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| রাত ১০:২৫|

লতিফ হত্যাকাণ্ড : জামায়াত নেতারা আসামী, খোশমেজাজে বিএনপি

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার করফাকর গ্রামে এক বিএনপিকর্মীর মারধরে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে রাজনীতি। দুই বিএনপি কর্মীর ধস্তাধস্তির জেরে এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মামলায় অধিকাংশ আসামী করা হয়েছে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, সেক্রেটারি সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম হাওলাদার বলেন, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে করফাকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বিএনপি কর্মী দেলোয়ার হোসেন ঘরামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় আবদুল লতিফের। একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন ঘরামী কয়েকটি থাপ্পর মারেন আবদুল লতিফকে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এখানে শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আল মামুন, ইসমাইল চৌকিদার, হিরু হাওলাদার ও মনির সহ আরো অনেকে। অথচ দায়েরকৃত মামলাটিতে প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী এসব ব্যক্তিদেরকে স্বাক্ষী রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, আঃ লতিফকে চরথাপ্পর মেরেছে দেলোয়ার। কোন সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা দেখিনি। ওখানে উপস্থিত অন্যান্যরা উভয়কে ছাড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিজে আঃ লতিফকে হাসপাতালে নিতে সাহায্য করেছি। অথচ মামলায় আমাকেও আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে আসামী করা হয়েছে যারা আদৌ ঐদিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। এমনকি মসজিদের ইমাম সাহেবকেও আসামী করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে তার ছিল সরব উপস্থিতি। কমিটিতে দেলোয়ারের নাম প্রস্তাব করার পর তিনি অন্য একজনকে সমর্থন দেওয়ায় তাকে কমিটির পদ দেওয়া হয়। সেই ছবি এখনো অনলাইন ও ফেসবুকে রয়েছে।

করফাকর বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আঃ লতিফ ভাই আমার মসজিদের মুসল্লী ছিলেন। আসরের নামাজের পর মারামারির সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু ততক্ষণে লতিফ ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। অথচ আমাকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আশ্চার্যম্বিত হয়েছি। তাছাড়া এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রমরমা মামলা বানিজ্য। নিহতের পরিবারকে জিম্মি করে মামলায় নীরিহ জামায়াতের লোকদের আসামী করে এই বানিজ্য করছে একটি মহল। এ ঘটনায় অসংখ্য নির্দোশ পুরুষ এখন বাড়িছাড়া ।সংবাদপত্রের সাবস্ক্রিপশন

ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আল মামুন বলেন, যেহেতু মামলা হয়েছে। তাই অযথা এই মুহুর্তে কোন কথা বলে বিপদে পড়তে চাইনা। কেননা এলাকায় অনেকেই এখন আতঙ্কে আছে।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই বিএনপি কর্মীর তর্কে এক পর্যায়ে থাপ্পর মারায় এ ঘটনা ঘটে। অথচ সম্পৃক্ত তিনজন ব্যতিত আর যাদের আসামী করা হয়েছে তারা কেউই সম্পৃক্ত নয়। বিশেষ করে জামায়াত করার কারনে যাদের আসামী দেওয়া হয়েছে তারা কেউ ঘটনাস্থলেই ছিলেন না।

সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফেরদাউস বলেন, ঐদিন আমি ছিলাম উজিরপুরে। সেখান থেকে আমি এলাকায় ফিরে মৃধাবাড়ি মসজিদে আসরের নামাজ পড়ি। এরপর শুনতে পাই করফাকর স্কুল প্রাঙ্গনে মারামারি হয়েছে। আমি আদৌ ঘটনাস্থলেই যাইনি। অথচ আমি সহ জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমির, সেক্রেটারী, ওয়ার্ড সভাপতিকে আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া বিএনপি নেতারা আমাদেরকে আসামী করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এলাকায় দফায় দফায় মিছিল বের করে।

তিনি আরো বলেন, মামলায় বাদীপক্ষকে জবরদস্তি করে জামায়াতের লোকদেরকে আসামী দিয়েছে বিএনপি নেতারা। তাছাড়া অভিযুক্ত দেলোয়ার একজন বিএনপি কর্মী। তাকে এখন জামায়াত সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।

সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এটিকে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। তারা নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে নির্দোশ লোকগুলোকে আসামী দিয়েছে। জামায়াতের উপরে দায় চাপিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সব বেড়িয়ে আসবে।

এ বিষয়ে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব লোকদের আসামী করা হয়েছে তারা অনেকে ঘটনাস্থলে ছিল, অনেকে কাছাকাছি ছিল। আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলে তো পুরো উপজেলা জামায়াতের লোকজনকে আসামী দিতে পারতাম, তা তো দেইনি।

বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন, আমরা এটা নিয়ে কোন রাজনীতি করছিনা। ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা করছি। কেননা আঃ লতিফ ছিল দলের একজন নিবেদিত ব্যক্তি। হত্যাকারী দেলোয়ার বিএনপি করতোনা, সে জামায়াতের সমর্থক বলে মন্তব্য করেন রিয়াজ মৃধা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরাফাত হাসান বলেন, মামলাটি তদন্তনাধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বানারীপাড়া থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শতদল মজুমদার বলেন, হ্যাকান্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দিয়েছে। আসামী ও স্বাক্ষীদের নাম তারাই দিয়েছে। তবে কোন নির্দোশ ব্যক্তি আসামী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আমরা প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com