
আন্তর্জাতিক ডেস্ক//
ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইরান। আলোচনায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, লেবাননে দেশটির দখলদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে তেহরান। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এই প্রথম। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৈঠকটিকে দেখা হচ্ছে।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও উদ্বেগের ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে এটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তার মতে, এ বৈঠক আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরেই ইরান আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গত আট মাসের ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী এবং নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বাঘাই বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পরিণতি এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বিবেচনা না করে এ ধরনের বৈঠক হতে পারে না। আলোচনায় বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের অভিযোগ, দেশটির ওপর হামলা বিনা উসকানিতে চালানো হয়েছে। তেহরানের মতে, এ সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।
বৈঠকটির মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল বা কোনো যৌথ সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।