
মিঠু্ আহম্মেদ, বরিশাল//
জেএমবিএফ এর প্রতিবেদনে ১৭১ ছেলে শিশু নির্যাতনের তথ্য, বিচারে বাধা প্রমাণ সংরক্ষণের জটিলতাপূর্ণাঙ্গ নিউজবরিশাল প্রতিনিধি: চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি ঘটনায় অন্তত ১০৯ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্স (জেএমবিএফ) এর মনিটরিং প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে মোট ভুক্তভোগী ১৭১ জন।
এর মধ্যে ১৬১ জন ধর্ষণ এবং ১০ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার।প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের সিংহভাগ ঘটনাই ঘটেছে আবাসিক মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৫% মাদ্রাসা শিক্ষক।
তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এই পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি জরিপ নয়।কেন বিচার আটকায়?
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ছেলে শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য আলাদা কোনো SOP (Standard Operating Procedure) নেই।
ফলে প্রমাণ দুর্বল হয়ে পড়ে।শিশু সুরক্ষায় এখনই যা করা জরুরি —এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিশু অধিকার কর্মীরা ৫ দফা সুপারিশ দিয়েছেন
১. নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা: প্রতিটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বেনামে অভিযোগ বাক্স, হটলাইন নম্বর এবং একজন নারী ও পুরুষ কাউন্সেলর রাখা।
২. তদারকি বাড়ানো: রাতে ছাত্রদের তদারকিতে একাধিক শিক্ষক, সিসিটিভি, এবং শিক্ষকদের আবাসিক কক্ষ পৃথক করা।
৩. পরিবারের সম্পৃক্ততা: প্রতি মাসে অভিভাবকদের সাথে বাধ্যতামূলক মিটিং এবং শিশুর সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ।
৪. দ্রুত আইনি সহায়তা: ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেডিকেল, পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো বাধ্যতামূলক করা।
৫. সচেতনতা: ‘ভালো স্পর্শ – খারাপ স্পর্শ’ নিয়ে শিশুদের বয়স উপযোগী ক্লাস।কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে সন্দেহ হলে ১০৯৮ নম্বরে (শিশু সহায়তা) অথবা ৯৯৯ এ কল করুন। লোকলজ্জা নয়, শিশুর নিরাপত্তাই প্রথম।