
নিজস্ব প্রতিবেদক//
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিম রহমান বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। বাংলার মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। অথচ সেই নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা সহ্য করা হবে না। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।’ শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে বিএনপি’র ৩১ দফা কর্মসূচির সমর্থনে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এস.এম শফিউল আজম শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় বেগম সেলিমা রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চান। যেখানে সকল মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে। সেই লক্ষ্যে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতকল্পে ঐতিহাসিক ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই ৩১ দফায় দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশের বেকারত্ব দূর হবে, আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে, দেশে সুশাসন ফিরে আসবে এবং জনগণের সত্যিকারের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশ স্বনির্ভর হবে। তাই তারেক রহমান ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
বিএনপি’র ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, তখন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ বাঁচাতে লন্ডনে বসে ঐতিহাসিক ৩১ দফা ঘোষণা করেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে যেসকল সংস্কার প্রস্তাব এনেছেন তার প্রায় সবগুলোই তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকার শুধু মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়নি, বরং দেশের সমগ্র নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘোষিত ৩১ দফায় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, ভোটাধিকার রক্ষা, আইনের সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের পূর্নাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। তাই ৩১ বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বিনির্মাণ করতে হলে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সাখাওয়াতের সঞ্চালনায় ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা বিএনপি’র সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার, মুলাদী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খান, বরিশাল জেলা কৃষকদলের আহবায়ক মহসিন আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিপন, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মজনু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক এইচ.এম রিয়াজ মাহমুদ, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সদস্য পারভেজ মৃধা, মাধবপাশা ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিল্টন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রিপন মেম্বার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে ওই মতবিনিময় সভা উপলক্ষ্যে দুপুর থেকেই আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে খন্ডখন্ড মিছিল নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের পদচারণায় ওই মতবিনিময় সভাটি একপর্যায়ে জনসভায় রূপ নেয়। মুলাদীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খানের নেতৃত্বে মুলাদী উপজেলা থেকেও ট্রলারযোগে এবং সড়কপথে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ওই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এসময় বাবুগঞ্জের কৃতি সন্তান পাকিস্তান পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার আবদুল জব্বার খানের মেয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং বাবুগঞ্জের স্বনামধন্য আইনজীবী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।