1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকের ঋণসীমা লঙ্ঘন

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ ডেস্ক//

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে দেশের ইসলামী ও চতুর্থ প্রজন্মের কয়েকটি ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর গড় ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর/আইডিআর) ১২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

অন্যদিকে চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এডিআরও ১০০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে এসব ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা, আমানত সুরক্ষা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত সীমার ওপরে এডিআর থাকলে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়। ফলে আমানতকারীরা হঠাৎ অর্থ উত্তোলন করলে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি নতুন আমানত সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ব্যাংকিং খাতে এডিআর বা ঋণ-আমানত অনুপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি নির্দেশ করে, একটি ব্যাংক সংগৃহীত আমানতের কত শতাংশ ঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে।

এ অনুপাত যত বেশি হয়, ব্যাংকের হাতে অব্যবহৃত তারল্য তত কমে আসে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাপ কিংবা আকস্মিক তারল্য সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকের জন্য ৮৭ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৯২ শতাংশ এডিআর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু এই সীমা লঙ্ঘন করেই ঋণ বিতরণ করেছে ইসলামী ও চতুর্থ প্রজন্মের বেশকিছু ব্যাংক।

দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা এখন ১০টি। অন্যদিকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকের সংখ্যা ৯টি। এর মধ্যে ১টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর দাঁড়িয়েছে ১০১.৬ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর উচ্চ এডিআর সম্ভাব্য তারল্য সংকট এবং অতিরিক্ত ঋণ বিতরণের ঝুঁঁকির ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর ১০০ শতাংশের বেশি এডিআর দ্রুত ঋণ পোর্টফোলিও সম্প্রসারণের আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রতিফলন।

জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি আগ্রাসী ঋণ বিতরণসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে ৫টি ইতোমধ্যে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

এ তালিকায় রয়েছে এক্সিম, সোশ্যাল ইমলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম চারটি বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল, আর এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে।

দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের তারল্য সহায়তা দিয়েও এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো যায়নি। তাই আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে এসব ব্যাংক একীভূত করে একটি বড় ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংকসহ কয়েকটির আর্থিক পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের সব ব্যাংকের গড় এডিআর কমে দাঁড়িয়েছে ৮২.৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৮৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৮৪.৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে গড় এডিআর ৬.৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এডিআর কমে ৬৮.১ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর এডিআর ৮২.৪ শতাংশ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গড় এডিআর ৮৯.৫ শতাংশ।

এর মধ্যে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর এডিআর ৯০.৫ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রজন্মের ৮৩.২ শতাংশ, তৃতীয় প্রজন্মের ৯০.৪ শতাংশ এবং পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর ৭১.১ শতাংশ।

অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলো সবচেয়ে রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে। মার্চ শেষে তাদের এডিআর ছিল মাত্র ৫৩.৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলনামূলক কম এডিআরের কারণে এসব ব্যাংক পর্যাপ্ত তারল্য সংরক্ষণ এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com