1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

পাকা সড়ক বদলে দিয়েছে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

মো. ছগির হোসেন কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ

ছগির হোসেন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ১৫ জুলাই ॥ প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের পাশাপাশি এবার যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে পর্যটন কেন্দ্রের পূর্ণতা পেয়েছে সমুদ্র ˆসকত কুয়াকাটা| জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি, লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন ও মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ বিহারে যেতে এখন সময় ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেল আগত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এলজিইডি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ আর জেলা প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পর্যটন কেন্দ্র ফিরে পেয়েছে এক নতুন দিগন্ত।

এক সময় বর্ষা মৌসুম এলেই কুয়াকাটার অন্যতম দর্শনীয় স্থান গঙ্গামতি, লেম্বুররবন, তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন ও মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ বিহারে যেতে দুর্ভোগের শেষ থাকত না| কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়ক পাড়ি দিয়ে এসব দর্শণীয় স্থানে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক পর্যটকের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঝপথেই ফিরে যেতেন। যায়াত পথের অভাবে জিরো পয়েন্টই ছিল একমাত্র দর্শনীয় স্থান| তবে এ বছর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এসব দর্শনীয় স্থানে পৌছাতে পাকা সড়ক নির্মাণ করায় পাল্টে গেছে আগের সেই দূর্ভোগের চিত্র। যোগাযোগের ব্যবস্থার কারনে বেড়েছে পর্যটক, প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে| প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি কুয়াকাটা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত| সৈকতের পাশাপাশি গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকত, লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন এবং প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ বিহার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ| কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে যাওয়ার সড়ক ছিল কাঁচা ও বেহাল| বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ত| এতে পর্যটকদের মন ভেঙ্গে যেত| পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতেন| এ বছর এলজিইডি এসব পর্যটন স্পটে পৌছানোর কাঁচা সড়ক পাকা করায় পর্যটন এলাকার অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনগুলো সহজেই চলাচল করতে পারছে। ফলে পর্যটকরা একাধিক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারছেন খুব সহজে| এতে তাদের সময় ও ভোগান্তি দুই-ই কমেছে| এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানান, বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপুর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের দর্শনীয় স্থান কেন্দ্রিক প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাস্তার কাজ শেষের পথে| পর্যটকরা এখন ওই রাস্তা দিয়ে দর্শণীয় স্থানগুলোতে যাওয়া আসা করছেন।

ঢাকা থেকে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পত্তি মো, মাজহারুল আনোয়ার ও রাবেয়া বসরী বলেন,” আমরা আগে কখনও কুয়াকাটায় আসি নাই, এখানে এসে কিছু কিছু জায়গার নাম শুনেছি এবং সেখানে গিয়েছি, জায়গাগুলো ভালো লেগেছে। আসা-যাওয়া করতে কোন অসুবিধা হয় নাই| বগুড়া থেকে আসা পর্যটক তাসলিমা তাবাচ্ছুম বলেন, “ আমি এর আগে তিন বছর পূর্বে একবার কুয়াকাটায় বেড়াতে আসছিলাম, তখন সাগরে জোয়ারের পানি কমে যাওয়ার পর লেম্বুরবন ও ঝাউবনে গিয়াছিলাম, কিন্তু তখন বৃষ্টিতে কাদা হওয়ায় ওপরের ভেড়িবাঁধ দিয়ে কোথাও যেতে পারি নাই। এবার এসে দেখি রাস্তা পাকা হয়েছে, তাই কুয়াকাটার সকল দর্শণীয় ষ্পটগুলো ঘুরে দেখতে পেরেছি। স্থানীয় উপজেলা সদর থেকে আসা দর্শনার্থী মো. কবির তালুকদার বলেন, “কুয়াকাটায় প্রতি সপ্তাহে আসা পরে, সব জায়গাই ঘোরাফেরা করি, কিন্তু বর্ষা মৌসুমে কুয়াকাটায় কম আসা পড়তো, কারন জিরো পয়েন্ট ছাড়া কোথাও যাবার সুযোগ ছিলনা, বর্তমানে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কার্পেটিং করে দেয়ায় সবসময় সব জায়গায় এখন যাওয়া যায়, তাই এখন প্রায়ই আসা পড়ে।

নতুন সড়ক শুধু পর্যটকদের সুবিধাই বাড়ায়নি। স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব। লে¤^ুরবন থেকে কাউয়ার চর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার ˆসকতের কোল ঘেসে রয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভা, লতাচাপলী ও ধুলাসর ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এখানকার স্থানীয়দেরও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও সহজ করেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নানা কাজে এখন আগের তুলনায় যাতায়াত সুবিধাসহ অনেক কম সময় লাগছে। সড়ক পথের এমন উন্নয়ন অবকাঠামোর কারনে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক হোটেল-মোটেল, রেস্তোরা, পরিবহন, ভ্রাম্যমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা, শামুক-ঝিনুক ও হস্তশিল্পের দোকানগুলোতে বেড়েছে বেচাকেনা।

কুয়াকাটার সিকুইন হোটেল মালিক মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, “আগে অনেক পর্যটক শুধু সৈকত দেখে ফিরে যেতেন। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারনে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পারায় পর্যটকরা একদিনের স্থলে ৩ দিন অবস্থান করছেন। এতে আমাদের হোটেল ব্যবসাও ভালো হচ্ছে| রেস্তোরা মালিক মো. আলমগীর হোসেন জানান, “পর্যটন কেন্দ্র হইছে ঘোরাফেরা করার জায়গা, পর্যটক আইসা যদি কোথাও না যাইতে পারে তাহলে তাদের মন ভালো থাকে না। এখন রাস্তা হওয়ার পর সব জায়গায় যাইতে পারে পর্যটকও দিন দিন বাড়ছে। ফলে আগের তুলনায় বিক্রিও বাড়ছে| মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার মার্কেটের শামুক-ঝিনুকের দোকান মালিক মো. জসিম উদ্দিন মুসুল্লী জানান, কুয়াকাটা থেকে মিশ্রিপাড়া প্রায় সাত কিলোমিটার দুরত্ব। এত বছর রাস্তা খারাপ থাকায় শুধুমাত্র শীতের মৌসুমে পর্যটকরা এখানে আসতো। আমাদের বেচা-কেনাও কম হতো| এবার রাস্তা হওয়ায় পর্যটকরা দিন রাত সবসময় এখানে আসে| আমাদে। বিক্রিও আগের তুলনায় বেশি হয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নই একটি পর্যটন শিল্প বিকাশের মূল চাবিকাঠি। যাতায়াত ব্যবস্থা যত উন্নত হবে, পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন তত বাড়বে, পর্যটকও তত বাড়বে| তবে সড়কের পাশাপাশি প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে আধুনিক সাইনেজ, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটনবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করা হলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প আরও পরিপূর্ণতা লাভ করবে| পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক কাজের গতি ইতিবাচক পরিবর্তনসহ দেশের অন্যতম আধুনিক ও টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে সমুদ্র ˆসকত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি ও কুয়াকাটা গেষ্ট হাউজ মালিক আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা পূর্বের চেয়ে একটু বেড়ে গেছে। এতদিন যে সকল দর্শনীয় ষ্পটগুলোতে যেতে পর্যটকদের বিড়ম্বনা ছিল তা কেটে গেছে| এখন পথ সুগম হয়ে গেছে| পর্যটকরা যাওয়া আসা করতে পারে| বর্ষা মৌসুমেও কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না| কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াছিন ছাদেক জানান, কুয়াকাটায় যে ট্যূরিষ্ট ষ্পটগুলো রয়েছে সেগুলোর কথা বলতে গেলে অবশ্যই গঙ্গামতি, লেম্বুরবন, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার, মিনি সুইজারল্যান্ড এবং লাল কাকড়ার যে চর। এগুলো ট্যূরিষ্টদের কাছে আকর্ষনের মূল কেন্দ্র বিন্দু হয়ে ওঠেছে। তবে জিরো পয়েন্ট থেকে এসব জায়গায় যেতে যাতায়াত পথ আগে খুব খারাপ ছিল। বর্তমানে আমাদের এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্ময়ে কার্পেটি রাস্তা করা হয়েছে| ট্যূরিষ্টরা এখন নিবিঘ্নে সব ষ্পটে যাতায়াত করতে পারছে। এলজিইডি‘র কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটায় যেসকল দর্শণীয় ষ্পটগুলো রয়েছে| বিশেষ করে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি, লেম্বুরবন, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহারসহ আগত পর্যটকরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও পর্যটকদেও সুবিধা দেওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে আমাদের আরো অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com