1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বুধবারও কমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূণ্য ৯ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়।

একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক শূণ্য ১ ডলারে নেমে আসে।

এ নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবস উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। বর্তমানে দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দিলেও একই সঙ্গে জানান, তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ অবসানে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘অনেকটা অগ্রগতি’ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

যুদ্ধ অবসানে আলোচনার সম্ভাবনা এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশায় মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে দিন শেষ করে। ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে বন্ধ হয়।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে এখন বেশি আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

তাঁর মতে, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক বাজারে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। যদিও দুই পক্ষের বক্তব্যে কঠোর ভাষা ও ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি অব্যাহত রয়েছে, বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করছে।

এদিকে সৌদি আরব মঙ্গলবার রেড সাগরের দিকে যাওয়া তার ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ইরাকের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে দায়ী করা ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব পড়ার পর সৌদি আরব এই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে সরিয়ে নিচ্ছিল। এই পরিমাণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

সৌদি আরব মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত স্থাপনা থেকে এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে।

ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, বর্তমানে ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাকের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছিল যথাক্রমে দৈনিক ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি বাড়লেও যুদ্ধ শুরুর আগের ফেব্রুয়ারির মাত্রা থেকে তা এখনো কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাপ্তাহিক সরকারি মজুতের তথ্য বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com