1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ ভারতে কুম্ভ মেলার জন্য

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে প্রায় ৬০০ বছরপুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের নির্দিষ্ট অংশ সরানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে সোমবার শত শত মানুষ জড়ো হলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি মসজিদ ভাঙার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদকারী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

উজ্জয়িনী প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের নির্ধারিত সড়কসীমার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশ পড়ায় সেটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মসজিদটি ১৩৯০ সালের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছে অবস্থিত। বার্তাসংস্থা সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী বিকল্প পথে সড়ক সম্প্রসারণ করা সম্ভব। তাদের অভিযোগ, মসজিদের পরিবর্তে বিপরীত পাশের স্থাপনা সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, প্রস্তাবিত অপসারণের ফলে মসজিদের প্রধান নামাজের কক্ষের একটি অংশ এবং প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মসজিদটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় এর ধর্মীয় কাঠামো সুরক্ষিত রাখা উচিত বলেও তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট থেকে উজ্জয়িনী পৌর করপোরেশন শাহী মসজিদ কমিটিকে একাধিক নোটিশ দেয়। নোটিশে বলা হয়, সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মসজিদের একটি অংশ অপসারণ প্রয়োজন।

চলতি মাসের শুরুতে মসজিদ কমিটি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করে এসব নোটিশকে স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবি জানায়।

তবে একক বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দিলে পৌর কর্তৃপক্ষের সড়ক সম্প্রসারণের পথ খুলে যায়। সোমবার মসজিদ কমিটি ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলেও সেটিও খারিজ হয়ে যায়।

এর আগে রোববার রাতে প্রশাসন ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে মসজিদের কাছে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। তারা মসজিদের কোনো অংশ সরাতে দেবেন না বলে অবস্থান নেন। অনেকে রাতভর মসজিদের ভেতরেও অবস্থান করেন।

প্রশাসন ও মসজিদ প্রতিনিধিদের মধ্যে রাতে আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা করা হয়। অনেক প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের যে অংশ সড়ক সম্প্রসারণের মধ্যে পড়েছে, সেটি সম্প্রদায়ের সদস্যরাই সরিয়ে নেবেন এমন একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে সোমবার অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হলে আবারও বিরোধ দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদের আশপাশে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়।

এদিকে ভারতীয় বার্তাসংস্থা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে সরাসরি বিক্ষোভের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ও বক্তব্যও পুলিশের তদন্তের আওতায় এসেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সংঘর্ষ উসকে দেওয়া বা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতাও রয়েছেন।

উজ্জয়িনী পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য ও পোস্টের ওপর পুলিশ নজরদারি করছে। মসজিদকেন্দ্রিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা শনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বার্তার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ এবং ড্রোনের ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শর্মার ভাষ্য, মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অপসারণের কাজ মসজিদ কমিটির সম্মতিতেই চলছে। তিনি বলেন, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গুজব বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, উজ্জয়িনীর সিটি কাজি খালিকুর রহমান পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলেছে, শুধু মসজিদ নয়, উজ্জয়িনী উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০৩৫-এর আওতায় বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাও অপসারণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, একই সড়কে ইতোমধ্যে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদ সরানো হয়েছে এবং পুরো উজ্জয়িনীতে প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলায় বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। তাদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তবে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিকল্প পথে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com