1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

শেষ ওভারের নেদারল্যান্ডসকে হারাল পাকিস্তান

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক//

শেষ ওভারের টানটান উত্তেজনার ম্যাচে একাধিকবার হাতছাড়া হতে বসা জয় শেষ পর্যন্ত নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করা নেদারল্যান্ডস ১৪৭ করে। জবাবে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ১৪৮ রান তুলে তিন উইকেটের নাটকীয় জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করল।

নায়ক না হলেও ত্রাণকর্তার ভূমিকায় ছিলেন ফাহিম আশরাফ-ভাগ্যের সহায়তায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শেষের আগের ওভারে ২৪ রান তুলে নেন তিনি এবং তিন বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ে পাকিস্তান পরের রাউন্ডে ওঠার পথে থাকল, যদিও মাত্র নয় বল আগে মনে হচ্ছিল আরেকটি অপ্রত্যাশিত বিদায়ই বুঝি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।

রান তাড়ায় অর্ধেক পথে পাকিস্তান ছিল স্বস্তিতে-৯ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। কিন্তু পল ভ্যান মিকেরেনের জোড়া উইকেট মেডেন ওভারের পরই চাপের কাছে ভেঙে পড়ে তারা।

বাবর আজম, যার কেবল ইনিংস ধরে রাখাই দরকার ছিল, এলোমেলো শটে রুলফ ভ্যান ডার মারইউর বলে ক্যাচ দেন। ১২ থেকে ১৯ ওভারের মধ্যে মাত্র ২১ রান আসে, পড়ে যায় পাঁচ উইকেট।

তবে নাটক তখনও বাকি। লোগান ভ্যান বিকের প্রথম বলই উড়ে যায় কাউ কর্নারের ওপর দিয়ে ছক্কায়। পরের বলেই ফাহিম লং-অন দিকে তুললে ম্যাক্স ও’ডাউড ক্যাচ ধরেও ফেলেছিলেন, কিন্তু বল হাতছাড়া হয়ে যায়-এই একটি মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এরপর ফাহিম আরও দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। নেদারল্যান্ডস তখন বুঝে যায়, সুযোগ হাতছাড়া।

ব্যাট হাতে নেদারল্যান্ডস শুরুটা করেছিল দারুণভাবে। প্রথম ১০ ওভারে তারা তোলে ৭৯ রান-পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের সেরা ১০-ওভারের স্কোর।

মাইকেল লেভিট, বাস ডি লিডে, কলিন অ্যাকারম্যান ও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে শেষ চার ওভারে মাত্র ২০ রান তুলতে গিয়ে ছয় উইকেট হারানোই তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে। ১২৭/৪ থেকে গুটিয়ে যায় ১৪৭-এ।

পোস্ট-ম্যাচে এডওয়ার্ডস বলেন, তিন বিভাগেই নেদারল্যান্ডস সেরা খেলতে পারেনি। পাওয়ারপ্লেতে লেভিট বড় ইনিংসের পথে ছিলেন, কিন্তু মোহাম্মদ নওয়াজের বলে তার শক্তিশালী শটটি বাউন্ডারির পথে থাকলেও বাবর আজম দুর্দান্ত দৌড়ে এসে ক্যাচ ধরেন।

একই সঙ্গে শাহিন আফ্রিদির সহায়তায় সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের প্রথম বড় ব্রেকথ্রু। পাকিস্তানের ফিল্ডিং ও ক্যাচিং ছিল প্রায় নিখুঁত-শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ইঞ্চিই যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা প্রমাণিত হয়।

এডওয়ার্ডস আউট হওয়ার পর নেদারল্যান্ডস কার্যত আক্রমণক্ষমতা হারায়। আবরার আহমেদ নিখুঁত লাইন-লেংথে চাপ বাড়ান, আর সাইম আইয়ুব-যিনি রহস্যজনকভাবে এক ওভারই বল করেছিলেন-সেই এক ওভারেই নেন দুই উইকেট। সালমান মির্জা ও আফ্রিদির আঘাতে শেষ ছয় ব্যাটার দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন।

পাকিস্তানের জন্য এটি প্রায় অবিশ্বাস্য হতো, যদি ফাহিম শেষ মুহূর্তে উদ্ধার না করতেন। ১১ ওভারে তারা ছিল ৯৮/২-সহজ জয়ই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভ্যান ডার মার্ভেরের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচের পর হঠাৎই ব্যর্থতার ভয় গ্রাস করে দলটিকে।

উসমান খান আউট হন, বাবর ঝুঁকিপূর্ণ শটে উইকেট দেন, আর রান যেন হঠাৎ করেই দুর্লভ হয়ে ওঠে। ১১ থেকে ১৮ ওভারে প্রয়োজনীয় রানরেট ৫-এর একটু বেশি থেকে লাফিয়ে প্রায় ১৫-এ পৌঁছে যায়।

শেষ পর্যন্ত ফাহিম আশরাফের ব্যাটেই আবার ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান-আরেকটি নাটকীয় টি-টোয়েন্টি রাতের শেষে স্বস্তির জয় তুলে নেয় তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com