1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad

শিক্ষার্থীদের চুল কাটলেন প্রধান শিক্ষক

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

সংবাদ ডেস্ক//

নওগাঁর বদলগাছীতে ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিদ্যালয় চলাকালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলো ভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায় এবং সহপাঠীদের সামনে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা। ভিডিওতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কথায় কথায় মারধরেরও অভিযোগ তোলেন।

মিলন নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুলও খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুলই ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।’

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল যেভাবে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে, তাতে শিশুরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।

এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন এই শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

মিতু বানু নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে এখন সে স্কুলেই যেতে চায় না। একজন শিক্ষক যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তবে তারা কোথায় নিরাপদ থাকবে?’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল, চোখের ওপর এসে পড়ছিল। দেখতে খারাপ লাগছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমি বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হলো, তা তদন্ত করতে সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com