1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বৃহস্পতিবার| বিকাল ৫:৩৬|

পটুয়াখালীর দুমকিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আপতুন্নেছা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ-শীর্ণ একটি ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৬৬ সালে নির্মিত ভবনটির দেয়াল ও ছাদে চওড়া ফাটল, পলেস্তার ঝরঝর করে খসে পড়া, আর ছাদের রড বেরিয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে আতঙ্কে রেখেছে।

শ্রেণিকক্ষের ঘাটতির কারণে ঝুঁকি জেনেও শিক্ষকরা প্রতিদিন এ ভবনেই পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ভূমিকম্পের ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভয় আরও বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বেশিরভাগ কক্ষেই ছাদের পলেস্তার উন্মুক্ত, কোথাও কোথাও ইট পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। কিছু কক্ষ এমন অবস্থায় রয়েছে, যেন সামান্য চাপেই ছাদ ধসে পড়তে পারে। তবুও পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় সেসব রুম ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্মৃতি ও জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, প্রতিদিন ক্লাসে ঢোকা মানে ভয়কে সঙ্গে নিয়ে চলা। “হঠাৎ করে ছাদ থেকে পলেস্তার পড়ে—কি হয় কে জানে,” বলেন তারা।

অভিভাবক মামুন ও সরোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানদের নিরাপদ জায়গায় পড়ানোর কথা থাকলেও তারা প্রতিদিন বিপদ মাথায় নিয়ে ক্লাস করছে। খুব দ্রুত ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন জরুরি।”

শিক্ষক পরিতোষ চন্দ্র দাস জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে ক্লাস নেওয়ার সময় তার মাথায় ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে। “এমন অভিজ্ঞতার পরও ক্লাস নিতে হচ্ছে, কারণ অন্য কোনো রুম নেই,” বলেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার হ্যাপি বলেন, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকট তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যায় ফেলেছে। “ভবনটি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি,” মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন থাকলেও সেখানে ঠিকঠাক সংকলন না থাকায় পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই নিতে হচ্ছে। “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তাব দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভবন সংস্কারের দাবি জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতার প্রমাণ। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কার না হলে যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে—এ আশঙ্কা স্থানীয়দের মনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com