
আন্তর্জাতিক ডেস্ক //
দাবানলে দক্ষিণাঞ্চলের লাগুনা বিচে আতশবাজির আগুন থেকে শুরু হওয়া একটি দাবানলের ঘটনায় ১৩ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, সান লুইস অবিস্পো কাউন্টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ‘মাদ্রে ফায়ার’ নামে পরিচিত দাবানলে ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার একর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে, যা এ বছরের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হয়েছে।
লাগুনা বিচ এলাকায় ‘র্যাঞ্চো ফায়ার’ নামের দাবানলটি শুরু হয় একটি ১৩ বছর বয়সী কিশোরের ফাটানো আতশবাজি থেকে। স্থানীয় সময় সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে শুষ্ক ঝোপঝাড়ে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ১০০টি বাড়ি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে দুই কিশোরকে আটক করা হলেও পরে তারা সাক্ষী হিসেবে শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজে আগুন লাগানোর দৃশ্য ধরা পড়লে প্রকৃত অভিযুক্ত ১৩ বছর বয়সী কিশোরকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বনভূমিতে ইচ্ছাকৃত আগুন দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আটক কিশোরকে পরে তার মা-বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে সান লুইস অবিস্পো কাউন্টিতে শুরু হওয়া ‘মাদ্রে ফায়ার’ ভয়াবহ দাবানলে রূপ নিয়েছে। বুধবার বিকেলে লস পাদ্রেস ন্যাশনাল ফরেস্ট এলাকায় শুরু হওয়া এই দাবানল শনিবার পর্যন্ত ৭৯,০০০ একরেরও বেশি এলাকা গ্রাস করেছে। এটি এ বছরের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হয়েছে।
দাবানলের কারণে স্টেট রুট ১৬৬ মহাসড়কের একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০টি বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে এবং ২০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন এখনো মাত্র ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এ দাবানলে কারিজো প্লেইন ন্যাশনাল মনুমেন্টের অন্তত ১১,৫০০ একর এলাকা পুড়ে গেছে। এই সংরক্ষিত এলাকাটি বিরল গাছপালা এবং বুনো ফুলের জন্য বিখ্যাত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবানল মাঝেমধ্যে বুনো ফুলের বীজ অঙ্কুরোদগমে সহায়তা করলেও, আগুন অতিরিক্ত তীব্র হলে তা পুরো বীজভাণ্ডার ধ্বংস করে দিতে পারে এবং ক্ষতিকর আগাছার আক্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ন্যাশনাল মনুমেন্টের মুখপাত্র ফিলিপ ওভিয়াট বলেন, আশা করছি, আগুন প্রকৃতির উপকারে আসবে, কিন্তু প্রকৃত প্রভাব আগুন নেভার পরই বোঝা যাবে।