1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ| ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| শনিবার| ভোর ৫:৪৭|

বরগুনায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রভাব

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক//

শীত আসতে না আসতেই বরগুনায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রভাব। ডায়রিয়া আর নিউমোনিয়ার প্রকোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শিশুরা। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী আর ওষুধ সংকটে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। ওষুধ সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি।

সরেজমিন বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে। ৫০ শয্যার এই ওয়ার্ডে প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে দেড় শতাধিক শিশু। বেশিরভাগেই ঠান্ডা, জ্বর, কাশি নিয়ে ভর্তি হলেও পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে বহু শিশু।

হাসপাতালের হিসাব বলছে—শুধু নভেম্বর মাসে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে আট শতাধিক শিশু আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও চার শতাধিক।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা মিললেও প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে ফার্মেসি থেকে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এতে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের গৃহিণী হাওয়া আক্তার বলেন, আমার একমাত্র সন্তান নিউমোনিয়ার কষ্টে সাতটি রাত গুনছি হাসপাতালে। চিকিৎসার নাম আছে, কিন্তু জরুরি ওষুধগুলো এখনও কিনতে হয় হাসপাতালের বাইরের দোকান থেকে।

সেবা প্রত্যাশি আব্দুল আলীম বলেন, ১৪ দিন হাসপাতালে থেকে দেখছি, দুই শতাধিক রোগীর ভিড়ে কি অপরিসীম অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একটি নেবুলাইজার মেশিনের মাধ্যমে শত শত রোগীকে সেবা দেওয়া হয় । সময়মতো সেবা মেলে না, ওষুধেরও সংকট আছে। শীতের শুরুতেই যদি এমন হয়, তাহলে বাকি দিনগুলো কেমন কাটবে? এমন প্রশ্ন তার।

রহিমা বেগম বলেন, ঠান্ডা লাগার কারণেই নিউমোনিয়ার জন্ম। হাসপাতালে ছুটে এলে মেলে না শয্যা, ঠান্ডা ফ্লোরই আশ্রয় হয়ে ওঠে। বেড সংকটের কারণে সন্তানকে কোলে নিয়ে রাত কাটাই।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী পারভেজ বলেছেন, ঠান্ডাজনিত সংক্রমণের কারণেই শিশুরা দ্রুত জটিল অবস্থায় পড়ছে। তাই শিশুদের নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণেই ঔষুধের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com