
মিঠু আহম্মেদ, বরিশাল//
প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগে ছাত্রকে মারধরের পর সংঘর্ষে জড়িয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
শনিবার রাত ৯টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ ১১টা পর্যন্ত চলে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, রাতভর দুই পক্ষকে নিবৃত্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের এক চালককে মারধর করায় বিচারের দাবিতে সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন তার সহকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, ১৫ জুলাই নবীন বরনের দিন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী।
কিন্তু প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিকভাবে বিরক্ত করছিলেন সেই ছাত্র। বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়রদের জানালে তারা শনিবার ওই ছাত্রকে ভিসি গেটের বিপরীতে অবরুদ্ধ করে।
একপর্যায়ে ওই ছাত্রকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে ইংরেজি বিভাগের ছাত্ররাও ঘটনাস্থলে এলে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের ভিতরে আরেকটি বিভাগ গেটের বাইরে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত হয়েও শিক্ষার্থীদের থামাতে পারেনি। পরে ১১টার দিকে থামে সংঘর্ষ।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, তাদের বিভাগের জুনিয়র এক মেয়েকে র্যাগিংয়ের কায়দায় উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় রোববার তাকে আটকে রাখে ওই ছাত্র।
বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হয়। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে হাত চালালে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। দুই বিভাগের শিক্ষার্থী উত্তেজিত ছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আশিক বলেন, “আমরা মারামারি ঠেকাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছি। কেউ কাউকে মানতে চায় না সবাই উত্তেজিত, দুই বিভাগই ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করেছে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।”
এ ঘটনায় দোষীদের তদন্তপূর্বক শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, সংঘর্ষ থামার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেয়ার পথে ফের হামলা করে ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী। এ সময় তারা অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে সব চালকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ম্যানেজারের কাছে এই ঘটনার বিচার চাইবেন বলে জানিয়ে চালকরা মো. শহিদ বলেন, “আমাদের সহকর্মীকে তারেককে মারধর করা হয়েছে। আমরা রেজিস্ট্রার ও পরিবহন পুল ম্যানেজারের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “আমরা সারারাত ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে। প্রক্টরিয়াল টিম মিটিং করে সিদ্বান্ত নেওয়া হবে।”
একই সাথে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, কারণ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে গবেষণা করে সিদ্বান্ত বের করবো, কেন তারা নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।”
তবে প্রক্টরের প্রাথমিক ধারনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে।তাই মাদকের বিস্তার রোধে শীঘ্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে কঠোর অভিযান করা হবে বলেও জানান তিনি।