
মিঠু আহম্মেদ, বরিশাল//
দেশের সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার মিছিল। এর পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে সামনে আসছে অদক্ষ চালক এবং থ্রি-হুইলার বা অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত ও থ্রি-হুইলার অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল।
প্রায়শই দেখা যায়, এসব অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যান যখন মহাসড়ক বা শহরের প্রধান সড়কে নিয়ম ভেঙে চলাচল করে এবং দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন চালকদের পক্ষ থেকে ‘গরিব’ বা ‘অসহায়’ হওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—আর্থিক অসচ্ছলতা কি ট্রাফিক আইন অমান্য করার এবং অন্যের জীবন বিপন্ন করার কোনো বৈধ লাইসেন্স হতে পারে? ভয়াবহ দুর্ঘটনার চিত্রসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সচেতনতামূলক পোস্টার এই জ্বলন্ত সমস্যাকে আবার সামনে এনেছে।
ছবিতে দেখা যায়, একটি অননুমোদিত থ্রি-হুইলার অটোরিকশার বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সড়কে আছড়ে পড়েছেন এক মোটরসাইকেল আরোহী।
পাশেই একটি পিকআপ ভ্যানকে ব্রেক চেপে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। রাস্তায় পড়ে থাকা ভাঙা কাচ এবং মোটরসাইকেলের ধ্বংসাবশেষ মনে করিয়ে দিচ্ছে সড়কের চিরচেনা সেই নির্মম বাস্তবতাকে।
ছবির নিচে বড় বড় অক্ষরে লেখা—”আর কত?”আইন অমান্যের উৎসব ও গণদাবিআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় বাধা এই আবেগীয় অপব্যবহার।
অটোরিকশার চালকদের বড় অংশেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কিংবা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। উল্টো পথে চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং অতিরিক্ত গতিতে বাঁক নেওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত সাধারণ পথচারী ও বৈধ যানবাহনের চালকেরা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, জীবিকার অধিকার সবারই আছে, কিন্তু তা অন্যের জীবনের বিনিময়ে নয়। দারিদ্র্যের অজুহাতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করাকে প্রশ্রয় দিলে দেশের সড়ক কোনোদিনই নিরাপদ হবে না।
কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানসরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, দেশের কোনো মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে দেওয়া হবে না।
দুর্ঘটনা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই (AI) প্রযুক্তির ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় জরিমানার বিধানও জোরালো করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, বরং “আইন সবার জন্য সমান”—এই নীতির কঠোর বাস্তবায়ন করতে হবে।
দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপদ সড়ক গড়তে আইনের তোয়াক্কা না করা এসব যানের বিরুদ্ধে এখনই শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) দেখানোর উপযুক্ত সময়।