1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| মঙ্গলবার| রাত ১০:২২|

ভারতকে পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) ঘিরে আবারও ভারতকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবারভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে ‘যে হাত বাড়বে, সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।’

ভারত সম্প্রতি সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এ ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চলতি বছর পহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর নয়াদিল্লি ওই সিদ্ধান্ত নেয়। হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে প্রবাহিত পানির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে পাকিস্তান কোনোভাবেই তার প্রাপ্য পানির অধিকার থেকে সরে আসবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্য অনুযায়ী, মালিক বলেন, একটি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেওয়া হবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো উজানের দেশের কি আন্তর্জাতিক রীতি উপেক্ষা করে ভাটির দেশে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার রয়েছে?

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর। তাই পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে শুধু কৃষিই নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, বিপুল কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মালিকের ভাষায়, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে যে, প্রাপ্য পানির অধিকার খর্ব করার যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব দেওয়া হবে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশটি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনও এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার বলেছেন, পাকিস্তানের জন্য পানি শুধু একটি সম্পদ নয়, এটি দেশের ‘লাইফলাইন’ এবং একই সঙ্গে ‘রেডলাইন’।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদব্যবস্থায় নিজেদের বরাদ্দকৃত পানির পুরোটা ব্যবহার করতে চায়। তার ভাষায়, ভারতের অংশের এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহারের নীতিমালা নির্ধারিত হয়। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এই চুক্তিই দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের ভিত্তি হিসেবে কার্যকর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com