1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| মঙ্গলবার| রাত ১০:২০|

বন্ধ হয়ে গেল ফরচুন গ্রুপের আনান সুজ

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ছবুর হোসেন, বরিশাল//

অর্থনৈতিক সংকটের মুখে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে ফরচুন গ্রুপের আনান সুজ কোম্পানি। একের পর এক লোকসানের কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি কোম্পানিটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে।

বন্ধ হওয়া কোম্পানির তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অনেকেই চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন আর অনেককেই ফরচুনের অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ৪৭২ জন কর্মী নিয়ে বরিশালে যাত্রা শুরু ফরচুন সুজের। ১৪ বছরের ব্যবধানে সেটি এখন ফরচুন গ্রুপে পরিণত হয়েছে। সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ফরচুন সুজ গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের দায়িত্ব পান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এ নেতা।

ফরচুন গ্রুপের বরিশালে তিনটি ও ঢাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ছিল। সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার আনান সুজ কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ফরচুন গ্রুপের বরিশালে তিনটি ও ঢাকায় চারটিসহ মোট সাতটি সুজ কোম্পানি রয়েছে।

এলসি জটিলতায় উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধের কারণে নিয়মিত লোকসান ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে এ কোম্পানি বন্ধ করা হয়েছে বলে মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ফরচুন সুজ কোম্পানি বিপুল অঙ্কের লাভ করলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সূত্র বলছে, বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করার কারণেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে কোম্পানিটি।

জানা গেছে, ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীসহ তিন বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন। সেখানে তিনি অবৈধভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করেছেন, যে কারণে কোম্পানির এ অবস্থা।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বছরের পর বছর বিপুল অঙ্কের মুনাফা লুটে নেয় কোম্পানিটি। তবে যাদের ঘাম ঝরানো শ্রমের বিনিময়ে আজকের ফরচুন গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের বাড়েনি বেতন-ভাতা।

পাঁচ মাস ধরে অনেক কর্মকর্তা বেতন পাচ্ছেন না। এছাড়া চার মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ সুপারভাইজারের। দুই মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে সাধারণ কর্মীদের।

বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ধার-দেনা করে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ এ বিষয়ে প্রতিবাদ কিংবা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।জাতীয় সংবাদ

ফরচুন গ্রুপের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট শাখার কর্মকর্তা মো. বাবুল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই থেকে পাঁচ মাসের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে তাদের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। যে কারণে কোম্পানির খারাপ সময় যাচ্ছে। শিগগিরই সমস্যা দূর হবে বলে আশাবাদী তিনি। তবে বিদেশে টাকা পাচারের তথ্যটি সঠিক নয় বলে দাবি তার।

এ বিষয়ে ফরচুন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিজানুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com