
সংবাদ ডেস্ক//
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ৪১নং পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন অক্যমং তংচঙ্গ্য (৪০), চিক্যং তংচঙ্গ্য (৩৪) ও শৈফুচিং তংচঙ্গ্য (৩২)। তারা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার বাসিন্দা ও পেশায় শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে সীমান্তবর্তী তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড এলাকার একটি কলাবাগানে কাজ করতে যান তিন শ্রমিক। এ সময় মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পূর্ব থেকে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনে বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন অক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা। পরে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে আরও একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চিক্যং তঞ্চঙ্গ্যা ও শৈফুচিং তঞ্চঙ্গ্যা নামে আরও দুইজন।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. জাফর ইকবাল বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিনজন উপজাতি নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিনজন উপজাতি বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’