1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| সোমবার| রাত ৯:৩৮|

গোল করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ইয়াসিন

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক//

২২ বছর বয়সী ইয়াসিন আয়ারির জন্য বিশ্বকাপে অভিষেকটা এর চেয়ে ভালো আর হতে পারত না। সুইডেনের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি জোড়া গোল করে দলকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন। তবে প্রথম গোলের পর তার উদযাপনই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।

মেক্সিকোর মনতেরেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জড়িয়ে দেন তিউনিসিয়ার জালে। গোল করার পর সাধারণ কোনো তরুণ ফুটবলারের মতো উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে দুই হাত তুলে সম্মান জানান এবং এরপর সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।

এর পেছনে রয়েছে তার রক্তের গভীরে থাকা তিউনিসিয়ার সম্পর্ক। আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান বংশোদ্ভূত। যদিও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে।

১৮ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মায়ের দেশের পরিবর্তে নিজের জন্মভূমি সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন ছিল তার বাবারও।

আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সে সুইডেনের হয়ে খেলুক। যে দেশ তাকে বড় করেছে এবং যত্ন নিয়েছে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই উচিত।’

তিনি জানান, তিউনিসিয়ার পক্ষ থেকেও ইয়াসিনকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবা ও ছেলে কেউই সেটিকে গুরুত্ব দেননি।

শৈশবে নিজ শহরের একটি ক্লাবে ফুটবল শুরু করেন আয়ারি। পরে দেশের অন্যতম বড় ক্লাবে যোগ দিয়ে দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর ইংল্যান্ডের একটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে পাড়ি জমান এবং ২০২৩ সালে সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার।

সুইডেনের জার্সি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়ারি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি সুইডেনের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছেন। তাই সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করাটাই তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর যখন জানা যায় সুইডেন ও তিউনিসিয়া একই গ্রুপে পড়েছে, তখন বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছিল। আয়ারি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমরা একই গ্রুপে পড়েছি।’

ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের বড় জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এই তরুণ মাঝমাঠের খেলোয়াড়। প্রথম গোলের পাশাপাশি যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি অসাধারণ গোল করেন তিনি।

প্রতিপক্ষের গোলমুখের সামনে বল পেয়ে দূরের কোণে নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর এবার অবশ্য উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখেননি। গ্যালারিতে থাকা আনন্দে মাতোয়ারা সুইডিশ সমর্থকদের অভিনন্দন সানন্দে গ্রহণ করেন তিনি।

বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে গোল করেও সম্মান দেখানো এবং নিজের দেশের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—দুইয়ের সমন্বয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক অভিষেক উপহার দিলেন ইয়াসিন আয়ারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com